বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ০৪:৩৮ অপরাহ্ন
সাইফুল ইসলাম, বাউফল : পটুয়াখালীর বাউফলের ঐতিহাসিক পুরার্কীতিগুলি প্রায় ধ্বংসের পথে। উল্লেখযোগ্য কীর্তিগুলি হচ্ছে, চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের রাজধানী কচুয়া, কমলারানীর দীঘি, ঘষেটি বিবির মসজিদ, তমিরুদ্দিন আউলিয়ার মাজার, কালিশুরীতে সৈয়দ আরেফিনের মাজার ও আদি যুগের মেলা, মদনপুরা গ্রামের ঢোল সমুদ্র দীঘি, কাছিপাড়া কানাই বলাই পুকুর, বগাতে ভারতবর্ষের সুপ্রাচীন চাউলের গোলা এবং বিলবিলাসে শেরে বাংলার পূর্ব পুরুষের মাজার। বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে জানা যায়, এই সকল কীর্তি যথাযথ রক্ষনাবেক্ষন, সংস্কার এবং সংরক্ষনের ব্যাপারে সংশ্লিস্ট মহলের উদ্যোগ নেই। এমনকি নাম ফলকও দেওয়া হয়নি। ইতিমধ্যে কোন কোন স্থানে এবং স্থাপত্য নির্দশনের অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার অভিপ্রায়। দু চারটি যাহা আছে তাহা আবার বিলুপ্ত হওয়ার উপক্রম।
খোজ নিয়ে জানাগেছে, চন্দ্রদ্বীপ রাজাদের শৌর্য-বীর্যের স্মৃতি কমলা রানী দীঘি: বৃহত্তর বরিশাল, ফরিদপুর ও খুলনা জেলার অংশ বিশেষ নিয়েছিল চন্দ্রদ্বীপ রাজ্য। চতুর্দশ শতকে চন্দ্রদ্বীপ ছিল বাকলা নামে পরিচিত। আর বাকলার রাজধানী বাউফলের কালাইয়া বন্দরের অদূরে কচুয়া নামক স্থানে ছিল। কালের বিবর্তনে ও তেঁতুলিয়ার করাল গ্রাসে রাজধানী কচুয়ার কোন চিহ্ন নেই। মদনপুরায় ঢোল সমুদ্র দীঘি: রাজা যশো রাজপাল মায়ের আদেশে বিশাল আকৃতির দীঘি খননের কাজ শুরু করেন। মায়ের আদেশে ছিল দীঘির তলদেশ হতে ঢোলের শব্দ শোনা মাত্র দীঘি খননের কাজ বন্ধ করতে হবে। যখন ঢোলের শব্দ শোনা গেছে তখন ঢোলের খনন কাজ বন্ধ হয়ে যায়। বিশালাকায় অর্থাৎ সমুদ্রের মত দীঘি নামকরন হয়েছ ঢোল সমুদ্র দীঘি। দীঘির চিহ্ন এখনও বিদ্যমান। এখন দীঘির পাশ দিয়ে হেটে যাওযার সময় ঢোল বাদ্যযন্ত্রের শব্দ শোনা যায়। তমির উদ্দিন আউলিয়ার মাজার: কমলারানীর দীঘি থেকে অর্ধকিলোমিটার দক্ষিনে রাস্তার পাশেই সু উচ্চ বটবৃক্ষের নিচে মাজারটি। এখন হইতে দেড় থেকে দু শত বছর পূর্বে যশোর হতে পাগল বেশে ওই ব্যক্তির এলাকায় আগমন ঘটে। ওই ব্যাক্তি কে নিয়ে বহু অলোকিক ঘটনা, কল্পকাহিনী এলাকার প্রবীণদের মুখে মুখে ছড়িয়ে আছে। মাজারে প্রতিদিন দূর দূরান্ত হইতে বহু নারী পুরুষ মানত নিয়ে আসে। জানা গেছে, প্রতিবছর চৈত্র মাসে মাজারের পাশে ওরশ হয়। শেরে বাংলার পূর্ব পুরুষের বাড়ী: বিলবিলাসের কাজীবাড়ী ছিল শেরেবাংলা একে ফজলুল হকের পূর্ব পুরুষের বাড়ী। আঠারো শতকের দিকে ভগলপুর হতে শেরবাংলার পূর্ব-পুরুষের বিচারকের চাকুরী নিয়ে বিলবিলাস গ্রামে আসে। শেরেবাংলার দাদা কাজী আকরাম ১৮২০ সালে বিলবিলাস গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কাজী আকরামের পিতা কাজী আমীনের কবর বিলবিলাস কাজীবাড়ীতে অরক্ষিত অবস্থায় আছে।
কালিশুরীতে হযরত সাইয়েদুল আরেফিন ঐতিহাসিক নির্দেশন: হযরত সাইয়েদুলআরেফিন নামাজের চাদরের উপরে বসে বাউফল থানার কালাইয়ার কাছে তেঁতুলিয়া নদী অতিক্রম করে ছিলেন। তার এ আগমনকে কেন্দ্র করে কালিশুরী নামকরন সহ ঐতিহাসিক নির্দেশন রয়েছে।
হযরত সাইয়েদুল আরেফিন একজন বিখ্যাত সুফী ছিলেন। তার আহবানে শত শত স্থানীয় অমুসলমান ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। তার সাথে বাগদাদ থেকে কয়েকজন ভক্ত এসেছিলেন। তার মৃত্যু পর তাকে কালিশুরীতে কবর দেওয়া হয়। তার মাজার কেন্দ্র করে কালিশুরীর ইসলাম ধর্ম প্রচারের কেন্দ্র রুপে দ¶িণ পূর্ববঙ্গে খ্যাতি অর্জন করে।
ঐতিহাসিক পুরাকীর্তি ঘষেটি বিবির মসজিদ: পুরাকীর্তি নির্দশন হচ্ছে ঘষেটি বিবির মসজিদ। কমলারানীর দীঘি হইতে ২ কিলেমিটার দক্ষিণে তেঁতুলিয়া নদীর তীরে শৌলা গ্রামে ঘষেটি বিবির মসজিদ। মসজিদটি দোতলা। ছোট ছোট ইট দ্বারা তৈরি মসজিদ টি। ভিতরে রয়েছে বিভিন্ন কারুকার্য। জনশ্রুতি হচ্ছে, নবাব সিরাজ দৌলার খালা ঘষেটি বিবির মসজিদ। প্রত্য¶ দর্শী কয়েকজন জানান, অনেকে মসজিদ আছেন। তাদের রোগ বালাই ভাল হয় নাকি শুনেছি। তবে ঘষেটি বিবির মসজিদ দেখার জন্য বেশি আকর্ষন চরবাসীর। কারন চরবাসী নাকি খোদা ভক্ত বেশি। রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য জেলা থেকে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত দেখার পর পর্যটকগন একটু দেখে যেতে পারে একই জেলার বাউফল উপজেলার কয়েকটি নির্দশন। মসজিদ পূর্বপাশে রয়েছে তেঁতুলিয়া নদী। নদীর মধ্যে জেগে ওঠেছে বিশাল চর। চর কাশেম নামে পরিচিতি। এ চর কাশেম পিকনিক করার মত একটি মনোমুগদ্ধকর একটি জায়গা।