মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৩:১৯ পূর্বাহ্ন

ঝুঁকিতে চলছে ফেরি ড্রেজিংয়েও মিলছে না সমাধান

ঝুঁকিতে চলছে ফেরি ড্রেজিংয়েও মিলছে না সমাধান

আলিফ হাসান, বেড়া (পাবনা): মানিকগঞ্জের আরিচা থেকে পাবনার কাজীরহাট নৌরুটে নাব্যতা সঙ্কট তীব্র আকার ধারণ করেছে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে রাত-দিন ড্রেজিং করেও কোনো সমাধান হচ্ছে না। ফলে কয়েকদিন পর পর বন্ধ থাকছে ফেরি চলাচল। এতে কোটি কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে সরকারের। বেড়েছে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে ভোগান্তি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর শুষ্ক মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই নদীতে পানি কমে ডুবোচর সৃষ্টি হয়ে নৌ চ্যানেল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। নাব্যতার অভাবে ঘাট কর্তৃপক্ষ গত নভেম্বর মাসে বাধ্য হয়ে তিনবার সাময়িকভাবে ফেরি বন্ধ রাখে। এখন কোনো রকমে ফেলি চললেও, পানি কমায় নাব্যতা সঙ্কট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। বালুর প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় চ্যানেলটি ক্রমেই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। ফলে যে কোনো সময় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে ফেরি চলাচল।বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) সূত্র জানায়, প্রায় এক মাস ধরে আরিচা ঘাটের অদূরে যমুনা নদীর ডুবোচরে ফেরি আটকে যাচ্ছে। এমন অবস্থায়ও ঝুঁকি নিয়ে ফেরি সচল রাখা হয়। ছয়টি খনন যন্ত্র দিয়ে একযোগে খনন করেও নাব্যতা ঠিক রাখা যাচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিআইডাব্লিউটিসির আরিচা ঘাটের ম্যানেজার আবু আব্দুল্লাহ বলেন, আরিচা-কাজীরহাট চ্যানেলে পলি পড়া অব্যাহত রয়েছে। বিগত চার মাসের বেশি সময় ধরে ড্রেজিং হলেও সুফল মিলছে না। যে কোনো সময় আবার ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে।এলাকাবাসী ও নৌপথ ব্যবহারকারীরা জানান, ফারাক্কা এবং গজলডোবা ব্যারেজের বিরূপ প্রভাবে প্রতি বছরই শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা-যমুনার আরিচা-কাজীরহাট-নগরবাড়ী-বাঘাবাড়ি নৌ রুটে নাব্যতা সংকট দেখা দেয়। কর্তৃপক্ষের সমন্বয়হীনতার ও অপরিকল্পিত ড্রেজিংয়ের কারণেই এ দুরাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে নৌযান চালকরা মনে করছেন। চার মাসের বেশি সময় ধরে ছয়টি ড্রেজার দিয়ে পলি অপসারণের পরও কি কারণে নৌপথ সচল থাকছে না এ নিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন।জানা গেছে, আরিচা-কাজীরহাট নৌরুট সচল রাখতে ২৮ জুলাই থেকে চার মাসের বেশি সময় ধরে পদ্মা ও যমুনা নদীতে বিআইডাব্লিউটিসির ড্রেজিং ইউনিটের নিজস্ব ৬টি ড্রেজার দিয়ে দিন-রাত পলি অপসারণের কাজ করা হচ্ছে। এতে ব্যয় হচ্ছে সরকারের কোটি কোটি টাকা। তবে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।

শেয়ার করুন

Comments are closed.




দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ © All rights reserved © 2025 Protidiner Kagoj |