মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন
মাহমুদ হাচান, শিশু সাংবাদিক (নীলফামারী): নীলফামারীর ডোমারের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের পাশে বিকাল ৪ টা থেকে রাত ১১ টা পর্যন্ত চটপটি-ফুচকা বিক্রি করেন মোঃ রুমন ইসলাম। প্রতিদিন মাত্র ৫ ঘণ্টায় ১৪-১৫ হাজার টাকার চটপটি-ফুচকা বিক্রি করেন। এতে সব খরচ বাদে মাসে ১ লক্ষ্য টাকা লাভ থাকে তার। এতে নিজের পরিবারের পাশাপাশি আরও একজন কর্মচারীর পরিবারের সচ্ছলতা ফিরিয়েছেন তিনি। এছাড়াও চটপটি-ফুচকা বিক্রি করে সুনাম কুড়িয়েছেন হাজারো মানুষের।
রুমন ইসলামের বাড়ি নীলফামারী ডোমার উপজেলা বোড়াগাড়ি ইউনিয়নে। বাবার মৃত্যুর পর সংসারে হাল ধরতে তৃতীয় শ্রেণী পড়াকালীন শুরু করে চটপটি-ফুচকা বিক্রি । দীর্ঘ ২২ বছরে চটপটি-ফুচকা বিক্রি করে তিন বোনের বিয়ে দিয়েছে ও এক বোনকে নার্সিং-এ পড়িয়েছে। এছাড়াও দিয়েছে ১ তলা বাড়ির ভিত্তি।
সরেজমিনে রুমনের দোকান গিয়ে দেখা যায়, বিকেলে দোকান খোলার সঙ্গে ভিড় জমে যায়। চলে রাত ১১টা পর্যন্ত। এক মিনিটও বিশ্রামের সুযোগ নেই। দুই হাত চলে সমানতালে। একবার ফুচকা আবার খানেক পরে চটপটি। এছাড়াও ডিম,ডিম রুটি ও চা পাওয়া যায়।
চটপটি-ফুচকা বিক্রেতা রুমন ইসলাম বলেন – বাবার মৃত্যুর পর তৃতীয় শ্রেণীর পড়াকালীন এই “রুমন চটপটি হাউজ” দেই। তখন থেকেই সংসারে হাল ধরতে জীবন যুদ্ধ শুরু । দীর্ঘ ২২ বছর বছর চটপটি-ফুচকা বিক্রি করছি। এই চটপটি একবার যিনি মুখে দিয়েছেন, বারবার তার না খেয়ে আর উপায় থাকে না।
পরিস্কারভাবে তৈরি চটপটি খেয়ে প্রশংসা করে, জান্নাতুল ফেরদৌস ঋতু বলেন – ডোমারে অনেক দোকান আছে চটপটির। অন্য দোকান থেকে এ দোকানের চটপটির স্বাদ ভিন্ন। এখানে হাঁসের ডিম ব্যবহার করা হয়, টাটকা-মচমচে ফুসকা দেওয়া হয় চটপটির মধ্যে। উনার আন্তরিকতা অনন্য। উনার মতো করে ডোমার শহরে আর কেউ চটপটি বানায় না। এজন্য আমরা প্রায়ই দলবেঁধে এই চটপটি খেতে আসি।
রংপুর থেকে খেতে আসা রুবেল ইসলাম বলেন – রুমন ভাইয়ের চটপটির সুনাম অনেক শুনেছি। স্বাদ ও মানের যে বিবরণ শুনেছিলাম সেটি যাচাই করতেই এসেছি চটপটি খেতে। আসলেই এটা প্রশংসা করার মতো চটপটি, এই খাবারের প্রশংসা করা যায়।
রুমনের ভাষ্যমতে, সব পেশায় সমান। কোনো পেশাই ছোট নয়। ফুটপাতে চটপটি-ফুচকা বিক্রি খারাপ কিছু না,এটা হালাল ব্যবসা। এই ব্যবসা করে যে কেউ সফল হতে পারে।