মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৮:৫০ পূর্বাহ্ন
মোঃ আতিকুর রহমান ভূইয়া, হোমনা (কুমিল্লা): মোবাইল ফোনের সাহায্যে টাকা আদান প্রদানের মাধ্যম ‘বিকাশ’ এ ছড়িয়ে পড়েছে নানা প্রতারণার জাল। সারা দেশে প্রতিনিয়ত অসংখ্য গ্রাহক নানা প্রতারণার শিকার হলেও নিজেদের দায়িত্ব কৌশলে এড়িয়ে যান বিকাশ কর্তৃপক্ষ। অপর দিকে এ বিষয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেও সহসা কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা।
কুমিল্লার হোমনায় বিকাশে প্রতারণার মাধ্যমে এক ব্যক্তির নিকট থেকে ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৪০ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে আছাদপুর ইউনিয়নের তেভাগিয়া গ্রামের মো. গোলাম হোসেন (৫০) নামের এক ভুক্তভোগী ৩ জনকে আসামী করে হোমনা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, গত ১৯/১০/২০২৪ খ্রি. তারিখ উপজেলার আছাদপুর ইউনিয়নের তেভাগিয়া গ্রামের মো. গোলাম হোসেন তার সৌদি প্রবাসি ভাগিনার অসুস্থ্যতার খবর পেয়ে চিকিৎসার জন্য মো. সিরাজুল ইসলামের বিকাশ দোকান গেলে প্রতারক চক্র তাকে ১৪ টি বিকাশ নম্বর দেয় এবং এই ১৪ টি নম্বরে মোট ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৪০ টাকা প্রেরণ করা হয়। পরে তিনি জানতে পারেন তার ভাগিনা অসুস্থ্য হয়নি। প্রতারক চক্র প্রতারণা করে তার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
পরবর্তীতে বিকাশ অফিসে কল করে উল্লেখিত আসামীদের নম্বরে টাকা গুলো প্রেরন করা হয়েছে মর্মে নিশ্চিত হয়ে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগীতায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার নম্বরে টাকা পাওয়ার কথা স্বীকার করে। কিন্ত টাকা অন্য নম্বরে প্রেরণ করা হয়েছে বলে টাকা ফেরৎ না দিয়ে তালবাহানা শুরু করে এবং টাকা চাইতে গেলে তাকে মিথ্যা মামলাসহ প্রাণ নাশের হুমকি দেয়।
পরে মো. গোলাম হোসেন বাদী হয়ে বিকাশ এজেন্ট মোমেন, তার শ্যালক আউয়াল মোল্লা ও ম্যানেজার মো. ইসমাইলের নামে হোমনা থানায় অভিযোগ করে।
ভুক্তভোগী মো. গোলাম হোসেন জানান, সমস্ত তথ্য প্রমান ও স্বীকারোক্তি দেয়ার পরও পুলিশ রহস্যজনক কারনে টাকা উদ্ধার করতে গড়িমসি করছে।
তদন্তকারি কর্মকর্তা হোমনা থানার এস আই নাসির উদ্দিন বলেন, অভিযোগ তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে, স্থানীয় ভাবে আপোষ মিমাংশার মাধ্যমে কিছু টাকা আদায়ও হয়েছে। বাকি টাকা দেয়ার জন্য সময় নিয়েছে। যদি টাকা না দেন তবে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।