মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৫:২৩ পূর্বাহ্ন

লাকসামে এসিল্যান্ড ও তহশিলদারের বিরুদ্ধে দু্র্নীতির অভিযোগ

লাকসামে এসিল্যান্ড ও তহশিলদারের বিরুদ্ধে দু্র্নীতির অভিযোগ

স্টাফ রির্পোটার: উচ্চ আদালতের রায়-ডিক্রির অবমাননা, ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতির মাধ্যমে দ্রুত নামজারি খতিয়ান প্রদান অন্যথায় সময় ক্ষেপনসহ সাধারন জনগনকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লার লাকসাম উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সিফাতুন নাহার ও ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কুমিল্লা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মোরশেদ আলম রাসেল। রাসেল লাকসাম পৌরসভার উত্তরকুল গ্রামের মৃত জহিরুল হকের পুত্র। অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, মোরশেদ আলম রাসেলের পিতা জহিরুল হক বিগত ২০০০ সালের ১৬ জুন ১০৯১৮ নং রেজিস্ট্রিকৃত দলিলে তাহার পিতা নুরুল হক হইতে ২৯৫ নং উত্তরকুল মৌজার বি.এস চুড়ান্ত ২২২ নং খতিয়ানের ৫১২ নং দাগের ৮ শতকসহ মোট ৯০ শতক জমির মালিক হয়ে ভোগদখল করেন ।

পরে বিগত ২০০৩ সালের ২১ ডিসেম্বর ২০৯০১ নং দলিলে অহিদুর রহমান ও মহরম আলীর নিকট ৫১২ দাগের ৬ শতক জমি বিক্রি করেন। বাকি ২ শতক নিজেই ভোগদখল করতে থাকেন। জহিরুল হকের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে উক্ত জমি মালিক ও ভোগদখল করতে থাকে তার ওয়ারিশানগন। কিন্তু রহস্যজনক ভাবে তাদেরকে কোন প্রকার নোটিশ প্রদান না করেই অবৈধ ভাবে অর্থিক দুর্নীতির মাধ্যমে ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ও উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি সিফাতুন নাহার ১২৩৩০/২৩-২৪ নং নামজারি মোকদ্দমার মাধ্যমে উক্ত ২ শতক জমি মোসাঃ পারুল আক্তারের নামে ৮৬৮ নং নামজারি খতিয়ান প্রদান করেন।

উক্ত পারুল আক্তার গংদের দায়ের করা একাধিক দেওয়ানী মোকদ্দমা খারিজ হলেও লাকসাম ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদেরকে অবৈধ উৎকোচ প্রদানের মাধ্যমে উক্ত নামজারি খতিয়ান সৃজন করে। যেখানে কুমিল্লার বিজ্ঞ জজ আদালতে তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা দেওয়ানী ৭০/২০০৪ নং মোকদ্দমা ও সর্বশেষ উক্ত পারুল আক্তার গংদের করা ২৬৪/২০২১ নং মোকদ্দমা গত ২০২৩ সালের ২৯ জানুয়ারী দোতরফাসুত্রে খারিজ হয়। কিন্তু কৌশলে দূর্নীতি মাধ্যমে চলতি বছরের ২৮ মে উক্ত জমি নামজারির আবেদন করে মাত্র ৮ কার্যদিবসের মধ্যে ৯ জুন অবৈধ ভাবে ৮৬৮ নং নামজারি খতিয়ান সৃজন করে নেয়। এ বিষয়ে রাসেল এসিল্যান্ড লাকসাম বরাবর উক্ত নামজারি খতিয়ান বাতিলের জন্য গত ৩ জুলাই লিখিত আবেদন করলেও কিন্তু তিনি ব্যবস্থা নিতে সময়ক্ষেপন করেন। পরে ৫ মাস পর ১৮ নভেম্বর উচ্চ আদালতের রায়-ডিক্রিকে উপেক্ষা করে বির্তকিত ৮৬৮ নং নামজারি খতিয়ান বাতিল না করে বহাল রাখেন, আবার উক্ত খতিয়ানের খাজনা আদায় ও নামজারি স্থগিত করেন।

ভুক্তভোগী মোরশেদ আলম রাসেল জানান, সরকারি কর্মকর্তা হিসাবে ক্ষমতার অপব্যবহারের ফলে স্থানীয় সরকারের সুনাম ক্ষুন্ন করছেন এসিল্যান্ড সিফাতুন নাহার ও তহশিলদার সাইফুল ইসলাম। তাদের দুর্নীতির কারনে আমি ও আমাদের অসহায় পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ্য ও হয়রানির স্বিকার হয়েছি। লাকসাম উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সিফাতুন নাহার, ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের দ্বারা জনসাধারণকে হয়রানি মুলক কর্মকান্ড প্রতিরোধ ও তাদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমি আকুল আবেদন জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে লাকসাম উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সিফাতুন নাহার বলেন, এটা একটি হয়রানী মুলক অভিযোগ। আমি সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট দেখে, আইন অনুযায়ী এ রায় ঘোষনা করেছি। তাদের কাছে যদি মনে হয় রায় আইনানুযায়ী হয়নি তাহলে তারা আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আপীল করতে পারেন।

শেয়ার করুন

Comments are closed.




দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ © All rights reserved © 2025 Protidiner Kagoj |