মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন

অনির্দিষ্টকালের জন্য কেয়া নীট কম্পোজিট বন্ধ, মহাসড়ক অবরোধ

অনির্দিষ্টকালের জন্য কেয়া নীট কম্পোজিট বন্ধ, মহাসড়ক অবরোধ

সিরাজুল ইসলাম তপু, গাজীপুর জেলা: গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ীর জরুনে অবস্থিত কেয়া নীট কম্পোজিট লিমিটেড কারখানার জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বকেয়া বেতন পরিশোধ না করেই বন্ধের নোটিশ পেয়ে উত্তেজিত শ্রমিকরা সোমবার বিকেল থেকে ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এতে ওই মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

শ্রমিক ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে জরুন এলাকায় অবস্থিত কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান কেয়া নীট কম্পোজিট লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা নভেম্বর মাসের বকেয়া বেতন দাবিতে বিক্ষোভ ও কর্মবিরতী পালন করছেন। রোববারও তারা কারখানায় কর্ম বিরতি পালন করে এবং সোমবার কারখানার সামনে সমবেত হওয়ার জন্য সকল শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এই প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেন এবং বন্ধের নোটিশ টানিয়ে দেন।

সোমবার সকাল হতে বকেয়া বেতনের দাবিতে কয়েক হাজার শ্রমিক কারখানার সামনে কোনাবাড়ি কাশিমপুর আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। তবে বন্ধের নোটিশ পেয়ে শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে কোনাবাড়ি ফ্লাইওভারের পাশে ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে। এতে দীর্ঘ কয়েক কিলোমিটার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়।

কেয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত কারখানা বন্ধের নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, কেয়া কসমেটিকস্ লিমিটেড (নীট কম্পোজিট ডিভিশন, স্পিনিং ডিভিশন, কটন ডিডিশন) ও কেয়া ইয়ার্ন মিলস্ লিঃ (জরুন, কোনাবাড়ি, গাজীপুর) এর সকল শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের জানানো হচ্ছে গত ২৬ ডিসেম্বর কারখানার অভ্যন্তরে কিছু সংখ্যক উচ্ছৃঙ্খল শ্রমিক আকস্মিকভাবে অযৌক্তিক ও বেআইনি দাবী নিয়ে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করেন। শ্রমিক ও কারখানা কর্তৃপক্ষের জান-মালের নিরাপত্তার স্বার্থে: শৃঙ্খলা বজায় রেখে কাজে যোগদানের জন্য বারবার অনুরোধ করা সত্বেও শ্রমিকসান কাজে যোগদান না করে উৎপাদন ফ্লোর থেকে কার্ড পাঞ্চ করে বেরিয়ে যান এবং কারখানার অন্যান্য ইউনিটের কাজ বন্ধ করে দেন। বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা থাকার কারণে কর্তৃপক্ষ কারখানার জান ও মালের নিরাপত্তার স্বার্থে বাধ্য হয়ে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ১৩ (১) ধারা অনুয়ায়ী কারখানার সকল কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হলো।

গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২ কাশিমপুর সাব জোনের সহকারী পুলিশ সুপার আবু তালেব বলেন, আমরা একটা নোটিশ দেখেছি সেখানে বলা হয়েছে আগামী ১৫ জানুয়ারি বেতন পরিশোধ করা হবে। শ্রমিকরা স্বাভাবিকভাবে বেতন চায়। এদিকে মালিক আর্থিক অবস্থার কারণে বেতন দিতে পারছে না, তিনি কারখানাতেও আসেন না। শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে মহসড়ক অবরোধ করেছে।
এ রিপোর্ট লেখার সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত শ্রমিকরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে।

শেয়ার করুন

Comments are closed.




দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ © All rights reserved © 2025 Protidiner Kagoj |