মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১০:২৪ পূর্বাহ্ন

ষড়যন্ত্রের শিকারে ঘটনাস্থলে না থেকেও মামলার আসামি হলেন যুবলীগ নেতা নিশান

ষড়যন্ত্রের শিকারে ঘটনাস্থলে না থেকেও মামলার আসামি হলেন যুবলীগ নেতা নিশান

ষড়যন্ত্রের শিকারে ঘটনাস্থলে না থেকেও মামলার আসামি হলেন যুবলীগ নেতা নিশান

আবুল হাসনাত মিনহাজঃ চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় দন্ত চিকিৎসক কোরবান আলীর মৃত্যুর ঘটনায় বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্রে ঘটনাস্থলে না থেকেও মামলার আসামি হয়েছেন বলে দাবি করেছেন বীর উত্তম খেতাব প্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, সাবেক ছাত্রনেতা ও চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের নেতা গোলাম রসুল নিশান।

মঙ্গলবার (১৪ মে) বেলা ১১টায় চট্টগ্রামের প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন তিনি।

নিজেকে নির্দোষ দাবি করে গোলাম রসুল নিশান সংবাদ সম্মেলনে আকবরশাহ এলাকায় দন্ত চিকিৎসক কোরবান আলীর মৃত্যুর ঘটনা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রমাণসহ বিস্তারিত তুলে ধরেন। এতে তিনি পশ্চিম ফিরোজ শাহ আবাসিক এলাকায় বিএনপি-জামায়াতের অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নে জড়িত আলী রেজা রানা। আলী রেজা রানা এখন তার নিহত পিতার মৃত্যুকে পুঁজি করে নিজ স্বার্থ চরিতার্থ করতে চাচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে গোলাম রসুল নিশান বলেন, আলী রেজা রানা নিজেকে বায়তুশ শরফ মাদ্রাসা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করলেও মহানগরের এক বিএনপির নেতার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ আছে।

সেই নেতার সঙ্গে রানার ছবিও আছে। দীর্ঘদিন ধরে রানা ইস্পাহানি স্কুল ও আশপাশে বিভিন্ন স্কুলের কিশোরদের নিয়ে এলাকায় ত্রাসের সৃষ্টি করছে। গত ফেব্রুয়ারী মাসে পশ্চিম ফিরোজশাহ এলাকার সামী নামে এক যুবক রানার এসব কিশোর গ্যাংয়ের প্রতিবাদ জানালে রানা পরিকল্পিত ভাবে ৯৯৯ এ কল দিয়ে সামিকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে সার্বিক দিক যাচাই-বাছাই করে সামীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ও ৯৯৯ এ দেয়া তথ্যের স্বপক্ষে কোন প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেয়।

নিশাল বলেন, আমি যেহেতু ফিরোজশাহ সমাজকল্যাণ সংঘ নামক একটি রেজিষ্টার্ড সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক, তাই আমাকে বিভিন্ন সময়ে এলাকার বিভিন্ন সমস্যা সামাজিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করতে হয়। আমরা কোনো ঘটনা সামাজিকভাবে সমাধান করতে না পারলে স্থানীয় কাউন্সিলরের কাছে কিংবা থানায় গিয়ে আইনগতভাবে সমাধানের পরামর্শ দিয়ে থাকি। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই পরিবেশ শান্ত করার জন্য আমি অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করি।

তারই ফলশ্রুতিতে তারাই আমাকে ফেব্রুয়ারী মাসের ঘটনা সমাধান করে দিতে প্রয়াত কোরবান আলীর বাসভবন গ্রিন টাওয়ারের সামনে বৈঠকের কথা বলে নিয়ে যান। সেই বৈঠকে জনসম্মুখে প্রমাণিত হয় যে নির্দোষ সামীকে আলী রেজা রানা ষড়যন্ত্রমূলকভাবে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। যেহেতু সে সামীর চেয়ে বয়সে অনেক ছোট, তাই উপস্থিত সবাই রানাকে সামীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করতে বললে রানা সেটি করতে অস্বীকৃতি জানায়। উল্টো রানা হুমকি দেয় এলাকার কেউ বেশি বুঝলে তাকেও ৯৯৯-এ কল দিয়ে পুলিশে দেবে।’

গোলাম রসুল নিশান বলেন, ষড়যন্ত্রের উদ্দেশে আলী রেজা রানা ওই বৈঠক চলাকালে কথোপকথন গোপনে অডিও রেকর্ড করে। তার উদ্দেশ্য যদি খারাপই না হয় তবে সে কেন একটি সামাজিক বৈঠকের কথোপকথন গোপনভাবে রেকর্ড করবে? সেদিন আমি পুলিশ প্রশাসন ও ৯৯৯ এর সেবা নিয়ে কোনো ধরনের কটূক্তি করিনি। এক প্রশ্নের জবাবে নিশান বলেন, রানা বার বার ৯৯৯ এ কলের কারণে এই ঘটনার সূত্রপাত বলছে। অথচ মামলার এজাহারে কোথাও সেই বিষয়টি উল্লেখ নেই৷ উল্লেখ নেই কারণ, ৯৯৯ এ রানা কল দিয়েছিল ঠিকই কিন্তু সেটি যে মিথ্যা ছিল সেটিও আকবর শাহ থানা পুলিশ বেশ ভালো ভাবেই অবগত ৷

সে মিথ্যা তথ্য দিয়ে পাবলিক সিম্প্যাথি নিচ্ছে এবং ৯৯৯ এর প্রসঙ্গ তুলে সরকার ও আইন শৃংখলা বাহিনীকে বেকায়দায় ফেলার অপতৎতা চালাচ্ছে যা পক্ষান্তরে বিএনপি-জামায়াতেরই এজেন্ডার বাস্তবায়ন। তিনি বলেন, তারাবিহ নামাজের সময় গ্রিন টাওয়ারের সামনে কিশোর ছেলেদের মারামারি করতে দেখা যেত। ওই বিষয়ে এক স্থানীয় ব্যক্তি এলাকার একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে অভিভাবকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। আমিও তার এই মতামতের সঙ্গে সহমত পোষণ করি। কারণ আমিও মারামারি করতে দেখেছি। ওই বিষয়ের সমাধানের আলোচনা না করে বিএনপির অন্যতম বড় পৃষ্ঠপোষক ফজলুল করিম টিপু গ্রুপে আজেবাজে মন্তব্য করেন। তিনি আমাকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন আজেবাজে মন্তব্য করেন। ‘তিনি এক অডিও বার্তায় আমি এলাকা থেকে চলে গেলে বা মরে গেলে মিষ্টি বিতরণ করবেন বলেও হুমকি দেন।

৩ এপ্রিল ভুয়া সংগঠন সমাজ পরিষদের তত্ত্বাবধানে এলাকায় পুলিশিং কমিটির নাম দিয়ে লক্ষাধিক টাকার চাঁদাবাজির অভিযোগ আসায় ওই চাঁদাবাজির বিষয় নিয়ে আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটা পোস্ট দিই। এছাড়া গত জাতীয় নির্বাচনে ফুলকপি মার্কার প্রচারণায় সামনের সারি থেকে নেতৃত্ব দেন তিনি, এ বিষয়েও আমি লেখালেখি করি। এ নেতা আমার ওপর চরম আকারে ক্ষিপ্ত হয়ে দন্ত চিকিৎসক কোরবান আলীর মৃত্যুর সময় আমার কোনো ধরনের উপস্থিতি ও সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও আসামির তালিকায় আমার নাম অন্তর্ভুক্ত করেন।’

গোলাম রসুল নিশান বলেন, বাদী আলী রেজা রানা ও তার কিশোর গ্যাং এলাকায় বিএনপি নেতা ফজলুল করিম টিপুর পরামর্শে পরিচালিত। দন্ত চিকিৎসক কোরবান আলীর আহত হওয়ার সিসিটিভি ফুটেজ ভালো করে খেয়াল করলে দেখা যাবে, পুলিশিং কমিটির সেক্রেটারি মোজাম্মেল হোসেন শাহীনের দুই ছেলে সানীম ও তানিমের উপস্থিতি রয়েছে। ঘটনার সময় আমি সপরিবারে ইফতারের দাওয়াতে হালিশহরে অবস্থান করছিলাম। এজাহারভুক্ত ১২ জন আসামির ১১ জন অনুপস্থিত ছিল এবং ৩নং আসামি সোহেলকে কোরবান আলীর মৃত্যুর মামলার বাদী আলী রেজা রানা ও তার বন্ধুরা মিলে বেধড়ক মারধর করছিল

শেয়ার করুন

Comments are closed.




দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ © All rights reserved © 2025 Protidiner Kagoj |