মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৫:২২ পূর্বাহ্ন
মোঃ খাইরুল ইসলাম, মুরাদনগর :
রোহিঙ্গা যুবককে অর্থের বিনিময়ে জন্ম-সনদ প্রদানের অভিযোগে কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলা সদর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোঃ ইসমাইল হোসেনকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কোম্পানীগঞ্জ-মুরাদনগর সড়কের নিমাইকান্দি এলাকা থেকে গ্ৰেফতার করেন কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল। ইউপি সচিব মোঃ ইসমাইল হোসেন কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার গুনানন্দি গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে।
জানা যায়, চলতি বছরের ১৫/০২/২০২৪ ইং রোহিঙ্গা যুবক ইয়াছিন (১৯) কুমিল্লা আঞ্চলিক অফিসে পাসপোর্ট অফিসে মুরাদনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের ঘোড়াশাল গ্রামের ‘ভুয়া’ জন্ম পরিচয় সনদ নিয়ে পাসর্পোট করতে গিয়ে আটক হয়ে ছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শেষে পাসর্পোট অফিসের কর্মকর্তারা রোহিঙ্গা যুবককে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।কোতোয়ালি মডেল থানায় এই বিষয়ে মামলা দায়ের করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রোহিঙ্গা যুবক কীভাবে জন্ম নিবন্ধন সনদ সংগ্রহ করেছেন এ বিষয়টির তদন্তে নামে গোয়েন্দা পুলিশ। তদন্তে ইউপি সচিব ইসমাইল হোসেনসহ বেশ কয়েকজনের সম্পৃক্ত থাকার তথ্য পাওয়া যায়।
সূত্রে আরো জানাযায়, রোহিঙ্গা যুবক ইয়াছিন (১৯) মিয়ানমারের বলিবাজার এলাকার সৈয়দ হোসেনের ছেলে। মিয়ানমার থেকে গত জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশে আসেন । প্রথমে কক্সবাজার বালুখালি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ব্লক-৯ থাকতেন। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে থাকা ওসমানের পরামর্শে কুমিল্লা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস সংলগ্ন মদিনা ট্রাভেলসের হাসান মাহমুদ ও মোশাররফ নামে ২ দালালের কাছে রোহিঙ্গা যুকবকে বাংলাদেশী পাসপোর্ট করার কন্টাক্ট করেন। পরে কন্ট্রাক্ট অনুযায়ী দালাল চক্রের হাসান মাহমুদ ও মোশাররফ কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের পশ্চিম ঘোড়াশাল গ্রামের ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে ২ লাখ টাকা নিয়ে রোহিঙ্গা যুবক ইয়াছিনের জন্মনস, নাগরিক সনদ ও অন্যান্য কাগজপত্র তৈরি করে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন এবং ধরা পরে রোহিঙ্গা যুবক ইয়াছিন।
ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী তুফরীজ এটন এই ঘটনায় জড়িত নন বলে জানান। যারা টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের ভূয়া ঠিকানা ব্যবহার করে জন্মসনদ তৈরি করেছে তাদের বিচারের দাবি করেছেন। কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজেশ বড়ুয়া জানান, রোহিঙ্গা যুবককে জন্মনিবন্ধন দেয়ার মামলায় সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ইউপি সচিব ইসমাইল হোসেনকে বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করা হয়েছে।
মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিফাত উদ্দিন বলেন, রোহিঙ্গা জন্মনিবন্ধন সংক্রান্ত মামলায় ইউপি সচিবকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের সেবায় যেন ব্যঘাত না ঘটে দ্রুত অন্য কাউকে ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্ব দেয়া হবে।