মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০২:৪৭ অপরাহ্ন
সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার রামজীবন ইউনিয়নের খংগুয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে প্রেমিকযুগলকে আটক অতঃপর টাউটবাজদের পোয়াবারো।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে উক্ত আশ্রয়ণ প্রকল্পের জনৈক আনোয়ার হোসেনের ঘরে ঐ প্রেমিকযুগল মিলিত হয়। এসময় দক্ষিণ রামজীবন খংগুয়া আদর্শ উ”চ বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী কামরুল ইসলাম, তোজাম্মেল হক, এনামুল হকসহ ৬-৭জন টাউটবাজ উক্ত ঘরে বসবাসকারী আনোয়ার হোসেনের সহযোগীতায় প্রেমিকযুগলকে আটক করেন। প্রেমিকা পশ্চিম রামজীবন গ্রামের মঞ্জু মিয়ার মেয়কে (১৮) চর-থাপ্পর মেরে নানান ভীতি প্রদর্শন করে তার প্রেমিকের কাছ থেকে আলাদা করে দেন টাউটবাজরা। এতেও প্রেমিকা তার প্রেমিককে ছেড়ে না দিয়ে বিয়ের দাবী জানায়।
অবশ্য প্রেমিক নিজেও বিয়ে করবে বলে তার চাচাত ভাই রবিউল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে এসেছিল। প্রেমিকা জানায় তার প্রেমিক সাদুল্যাপুর উপজেলার মাদারগঞ্জ এলাকার হারুন-উর রশিদ-জেলেখা বেগম দম্পত্তির ছেলে জেলাল ওরফে বাবুল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে চুপিসারে তাকে সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে বিভিন্ন সময় নানা জায়গায় নিয়ে দৈহিক মেলামেশায় লিপ্ত হয়। ঘটনার দিন পশ্চিম রামজীবন গ্রামের আনোয়ার হোসেন, এনামুল হক, উত্তর বেকাটারী গ্রামের তোজাম্মেল হক, কামরুল ইসলামসহ ৬-৭ জন মিলে তার প্রেমিককে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে গিয়ে তার সঙ্গে বিয়ে দিবে বলে তার (প্রেমিকার) কাছ থেকে আলাদা করে নিয়ে যায়। তারপর আত্মীয়তার সূত্র ধরে তার প্রেমিক জেলাল ওরফে বাবুল ও তার চাচাত ভাই রবিউলকে ছেড়ে দিয়েছে। শুধু তাই না; টাউটবাজরা মোটা অঙ্কের টাকা ও মোবাইল ফোনসেট নিয়ে রবিউলসহ তার প্রেমিক জেলাল ওরফে বাবুলকে তাদের বাড়িতে পাঠিয়েছে।
পরে তার প্রেমিক ও প্রেমিকের মায়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলে রবিউলসহ প্রেমিক জেলাল ওরফে বাবুলকে বড়িতে চলে যাবার সুযোগ করে দেয়ার বিনিময়ে আত্মীয়তা সম্পর্ক ছাড়াও মোটা অঙ্কের টাকা ও মোবাইল ফোনসেট হাতানোর বিষয়টি জানতে পায়। সে তার প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ের দাবী জানিয়ে বলে অন্যথায় আত্মহননের পথ বেছে নেয়া ছাড়া আর কোন উপায় নেই। এজন্য প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানায় সে।
এ ব্যাপারে প্রেমিক জেলাল ওরফে বাবুল, তার মা ও চাচাত ভাই রবিউলের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টায় করে হলে তারা মোবাইল ফোনকল রিসিভ করেননি। পৃথক পৃথকভাবে মোবাইলফোনে কথা হলে আনোয়ার হেসেন, এনামুল হক, তোজাম্মেল হক, কামরুল ইসলামসহ অন্যান্যরা ঘটনার কিছু কিছু তথ্য অস্বীকার করার চেষ্টা করলেও পরবর্তীতে ঘটনাসমূহের সত্যতা স্বীকার করে একে অপরের উপর দোষ বর্তানোর চেষ্টা করেন।
ইউপি চেয়ারম্যান শামসুল হুদা বলেন, বিষয়টি শুনেছি। ওরা (মেয়ে পক্ষ) অভিযোগ করার জন্য এসেছিল।