সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১০:১৯ অপরাহ্ন

কক্সবাজারের ঈদগাঁওতে শিশু সাজ্জাদ হত্যাকাণ্ড, ন্যায়বিচার দাবি পিতামাতার

কক্সবাজারের ঈদগাঁওতে শিশু সাজ্জাদ হত্যাকাণ্ড, ন্যায়বিচার দাবি পিতামাতার

ইয়াছমিন মুন্নী, কক্সবাজার : কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার বোয়ালখালিতে শিশু সাজ্জাদকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ছয়মাস পেরিয়ে গেলেও বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদছে। চাঞ্চল্যকর ও বহুল আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের পর শিশুটির পিতামাতা অনেকটা মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছেন। উল্টো মামলার আসামিপক্ষের লোকজন নিহত শিশুর পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি ও মামলা প্রত্যাহারে চাপ সৃষ্টি করছে। জানা যায়, গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের উত্তর সাতজুলাকাটা গ্রামের নুরুল হুদার শিশুপুত্র সাজ্জাদ হোসেন বান্ডির (১৩) সাথে প্রতিবেশী আবদুস সালাম টুইল্যার শিশুপুত্র নুরুল আজিম কালুর মধ্যে ঝগড়া হয়। এই ঘটনার জের ধরে কালুর পিতা টুইল্যা পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর শিশু সাজ্জাদকে রাস্তা থেকে ধরে বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে শিশুটিকে গাছের সঙ্গে বেঁধে ব্যাপকহারে লাথি, কিল ও ঘুষি মারে এবং গলাটিপে হত্যার চেষ্টা করে। এর একদিন পর সাজ্জাদ ঈদগাঁওর একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যায়।

নিহত শিশুটির পিতা ও মামলার বাদী নুরুল হুদা বলেন- তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবদুস সালাম টুইল্যা, তার সন্ত্রাসী পুত্র মোহাম্মদ আলম ও নুরুল আজিম কালু এবং টুইল্যার স্ত্রী মিনুয়ারা বেগম মিলে আমার শিশুপুত্রের উপর অকথ্য নির্যাতন চালিয়েছে। প্রচন্ড মারের আঘাতে আমার সন্তান সাজ্জাদ এর একদিন পরে হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায়’। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলাটির স্বাক্ষী, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মাস্টার কবির আহমদ বলেন- ‘ঘটনার দিন বিকেলে একটি প্রয়োজনীয় কাজ শেষে ফেরার পথে শিশু সাজ্জাদকে মারধর ও গলাটিপে হত্যার লোমহর্ষক দৃশ্য দেখি’। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ঈদগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জুয়েল সরকার বলেন- ‘মামলাটির তদন্ত অনেকটা শেষ পর্যায়ে। শীঘ্রই আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে’। ঈদগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: গোলাম কবির জানান- শিশু সাজ্জাদ হত্যামামলার প্রধান দুই আসামি ইতোমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছে। বাকি আসামিদেরও গ্রেফতারে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

শেয়ার করুন

Comments are closed.




দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ © All rights reserved © 2025 Protidiner Kagoj |