মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০১:৫২ পূর্বাহ্ন

ছুরিকাঘাতে ‘হত্যা, অভিযুক্তরা কাউন্সিলর লিটনের অনুসারী

ছুরিকাঘাতে ‘হত্যা, অভিযুক্তরা কাউন্সিলর লিটনের অনুসারী

চট্টগ্রাম ব্যুরো :  চট্টগ্রামের পাহাড়তলী নয়াবাজার বিশ্বরোড এলাকায় আজাদুর রহমান (৩০) নামের একজনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ২৮ মে রোববার ভোরে এ ঘটনা ঘটে। আর এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুর্বৃত্তরা চসিকের প্যানেল মেয়র ও ২৫ নং রামপুরা ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুস সবুর লিটনের আনুসারী বলে অভিযোগ উঠেছে। দুর্বৃত্তরা লিটনের ভাই আবদুল মান্নান খোকনের নেতৃত্বে এলাকায় দাপিয়ে বেড়ায় বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। স্থানীয়রা জানায়, দুর্বৃত্তরা খোকনের নেতৃত্বে এলাকায় চাঁদাবাজি, ডাকাতি, ছিনতাই, জুয়া ও মাদক পাচারে জড়িত।

একই অভিযোগ তুলেছেন নিহত আজাদের স্ত্রী নাজু বেগম। সোমবার দুপুরে এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাজু বেগম বলেন, রাজীব, হোসেন, ফয়সাল, ওসমানসহ ৭ জন মিলে আমার স্বামীকে হত্যা করেছে। লিটন কমিশনারের কারণে এই ছেলেগুলো আমার স্বামীকে মেরে ফেলেছে। আমার দুটি মেয়েকে এতিম করে ফেলেছে। লিটন কমিশনারের ফাঁসি চাই। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সবার ফাঁসি চাই। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা চাঁদাবাজি, ডাকাতি, চুরি, ছিনতাই করে। কিছু দিন আগে নগরের নয়াবাজার এলাকায় চাঁদাবাজিতে বাধা দিয়েছিল আজাদ। পরবর্তীতে রোববার ভোরে নামাজে যাওয়ার সময় পথ আটকে তাকে ছুরিকাঘাত করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় গুরুতর আহত অবস্থায় আজাদকে চমেক হাসপাতালে নেওয়ার সময় খুনিদের নাম আবুল হাসনাত রাজু প্রকাশ রাজু, ফয়সাল ও ওসমান বলে জানায় আজাদ। এরপর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

নিহত আজাদের বড় ভাই মফিজুর রহমান বলেন, আমার ভাইকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে রাজু, ফয়সাল ও ওসমানসহ তাদের সাঙ্গোপাঙ্গরা। তারা সবাই প্যানেল মেয়র ও রামপুরা ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবদুস সবুর লিটনের আনুসারী। এ ঘটনায় আমরা থানায় মামলা করেছি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, আজাদ একজন নিরপরাধ, সহজ-সরল, খেটে খাওয়া মানুষ। নতুন বাজার এলাকায় গাড়ির গ্যারেজের পাহারাদার হিসেবে কাজ করতেন। মাঝেমধ্যে বড়শি শিকারিদের সঙ্গে যেতেন। শ্রমের বিনিময়ে সামান্য টাকা উপার্জন করে পরিবার চালাতেন। হত্যাকারীরা আগে থেকেই আজাদকে চিনত। এর আগে তাদের সঙ্গে চাঁদা নিয়ে বাড়াবাড়ি হয়েছিল। হত্যাকারীরা ও নিহত ব্যক্তি একই এলাকার বাসিন্দা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্তরা সবাই কাউন্সিলর লিটনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। দলবদ্ধভাবে বিভিন্ন দোকানে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, জুয়া ও মাদকের কারবার করে এলাকায় রীতিমতো ত্রাস সৃষ্টি করে আসছে তারা। কাউন্সিলর লিটন ও খোকনের সঙ্গে মূল অভিযুক্ত আবুল হাসনাত রাজুর তোলা একাধিক ছবি রয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে।স্থানীয়দের অভিযোগ, কাউন্সিলর লিটনের ছোট ভাই খোকনের বেপরোয়া ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে ওই এলাকার সাধারণ মানুষ ভীত-সন্ত্রস্ত। এলাকায় নিত্য চাঁদাবাজি, জুয়ার আসর, মাদক সেবন ও পাচারসহ নানা অপরাধ করে বেড়ায় খোকন। আর অনুসারী হিসেবে পরিচিত দুর্বৃত্তরা এসব অপরাধ কর্মকাণ্ডের প্রত্যক্ষ সহযোগী।আবদুল মান্নান খোকনের বিরুদ্ধে নগরের পাহাড়তলীর ভেলুয়ার দিঘি ও ডেবার পাড় এলাকায় বড়শি প্রতিযোগিতার আড়ালে দিনদুপুরে জমজমাট জুয়ার আসর বসানোর অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ আছে, বড়শি প্রতিযোগিতার নামে এ জুয়ার আসরের আয়োজন করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন খোকন। আর সবকিছুর মূলে প্যানেল মেয়র আবদুস সবুর লিটন।এর আগে ২০২১ সালের ৩ মে হালিশহর থানার ঈদগা বড়পুকুর পাড় এলাকার একটি অসহায় পরিবারের ওপর হামলা অভিযোগ উঠে আবদুল মান্নান খোকনের বিরুদ্ধে। পাহাড়তলী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রোজিনা আক্তার বলেন, মৃত্যুর আগে ভিকটিম খুনিদের নাম বলে গেছেন। সে হিসেবে আমরা ধরে নিয়েছি এরাই খুনি। ভিকটিমের দেওয়া তথ্য মতে রাজু, তার ভাই রাজীব, ওসমান ও ফয়সাল এ খুনের ঘটনা ঘটিয়েছে। তাদেরকে র‌্যাব গ্রেফতার করেছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।গত সোমবার রাঙামাটি জেলার সদর থানাধীন একটি আবাসিক হোটেল এবং নগরীর কদমতলী এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব ৭-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. নূরুল আবছার।

শেয়ার করুন

Comments are closed.




দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ © All rights reserved © 2025 Protidiner Kagoj |