মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৩:৪৪ পূর্বাহ্ন
তৌহিদ বেলাল
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার ব্যবসায়ী মুহাম্মদ আব্দুল্লাহর (৫৮) সঙ্গে পরিচয় হয় ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার শেরপুর গ্রামের সুমি আক্তারের (২৪)। পরিচয়ের পর দিনে দিনে সম্পর্কের গভীরতা তৈরি হয় উভয়ের। বয়স্ক ব্যক্তি মুহাম্মদ আব্দুল্লাহকে ‘বাবা’ ডাকতে শুরু করেন সুমি। এরপর প্রায় সময় বাবা-মেয়ের মতো কথা হতো তাদের। মাত্র দেড় মাসের সম্পর্কে ব্যবসায়ী মুহাম্মদ আব্দুল্লাহকে ময়মনসিংহে নিজের বাড়িতে দাওয়াত দেন কথিত মেয়ে সুমি আক্তার। ‘মেয়ে’র দাওয়াতে সাড়া দিয়ে ঢাকা হয়ে ময়মনসিংহের নান্দাইলে যান মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ। সুমি আক্তারের বাড়িতে গিয়ে মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বুঝতে পারেন এটি ‘সুমি চক্রের’ পাতানো বিশাল ‘ফাঁদ’। বাসায় পৌঁছানোর পর মুহাম্মদ আবদুল্লাহকে আটকে রেখে টেকনাফে তার পরিবারের কাছে চাওয়া হয় পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ। একপর্যায়ে আবদুল্লাহকে নির্জন কক্ষে আটকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও ভিডিও ধারণ করেন সুমি চক্র।
জানা যায়, এই সুমি আক্তার ও তার দুই সহযোগীকে সোমবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ। নান্দাইল উপজেলার শেরপুর গ্রাম থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার সুমি আক্তার শেরপুর গ্রামের মাজাহারুল ইসলামের স্ত্রী। ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গৌরিপুর সার্কেল) মোহাম্মদ সুমন মিয়া বলেন- ‘মুহাম্মদ আবদুল্লাহকে ‘বাবা’ ডেকে ফাঁদে ফেলে সুমি কৌশলে তার বাড়িতে দাওয়াত দেয়। পরে সেখানে বিবস্ত্র ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করে চক্রটি। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৭০ হাজার টাকা দিয়ে নির্যাতন থেকে রক্ষা পান মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ। বিষয়টি খুবই ভয়ঙ্কর ছিল। সময়মতো তাকে উদ্ধার করতে না পারলে আরও বড় বিপদ ঘটতে পারতো। গ্রেপ্তারকৃতদের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে’।
টানা ৪-৫ দিন কোনো খোঁজ না পেয়ে মুহাম্মদ আব্দুল্লাহর পরিবার কক্সবাজারের টেকনাফ মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। সেই সূত্র ধরে আব্দুল্লাহর খোঁজ শুরু করে পুলিশ। প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনাস্থল চিহ্নিত করে পুলিশ কথিত ‘মেয়ে’ সুমির বাড়ি থেকে মুহাম্মদ আব্দুল্লাহকে উদ্ধার করে।এদিকে মুহাম্মদ আবদুল্লাহর সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তিনি বলেন- ‘মেয়ে’ সেজে ‘বাবা’ ডেকে অতি অল্প সময়ে আমাকে অনেক ‘আপন’ করে নেয় সুমি আক্তার। পিতা-কন্যার দোহাই দিয়ে অনেক অনুনয়-বিনয় করে ময়মনসিংহে তার বাসায় যেতে বায়না ধরে। পরে ওখানে পৌঁছার পর তার মুখোশ উন্মোচন হয়ে পড়ে। তারা আমাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। একপর্যায়ে বিবস্ত্র করে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে। টেকনাফে আমার পরিবারে ফোন করে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৭০ হাজার টাকা দিই’। #