মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন

বোয়ালখালীতে প্রতারণার মামলায় ওয়ারেন্ট ভুক্ত পলাতক আসামি হায়দার ইসলাম ওরফে আজাদ-বৈদ্য গ্রেফতার!

বোয়ালখালীতে প্রতারণার মামলায় ওয়ারেন্ট ভুক্ত পলাতক আসামি হায়দার ইসলাম ওরফে আজাদ-বৈদ্য গ্রেফতার!

বোয়ালখালীতে প্রতারণার মামলায় ওয়ারেন্ট ভুক্ত পলাতক আসামি হায়দার ইসলাম ওরফে আজাদ-বৈদ্য গ্রেফতার!

মোহাম্মদ আলী রিপন, বোয়ালখালী : চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে আদালতে করা এক প্রতারণা মামলায় ওয়ারেন্ট ভুক্ত পলাতক আসামি হায়দার ইসলাম(৪২) ওরফে “আজাদ -বৈদ্য” কে গ্রেফতার করেছে বোয়ালখালী থানা পুলিশ।

গত শুক্রবার (৩০জুন) বেলা ১২টার দিকে “হায়দার-বৈদ্য” কে নিজ বাড়ি থেকে আটক করেছে বলে জানিয়েছেন বোয়ালখালী থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম।

পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, ৪৩৩/২৩ নং মামলায় ওয়ারেন্ট আসার পর থেকে আসামি বেশ কিছুদিন আত্মগোপনে ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আসামির বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আসামিকে গ্রেফতার করি। হায়দার ইসলাম উপজেলার খরনদ্বীপ ইউনিয়নের মুন্সি-পাড়া এলাকার মৃত আবুল কালাম আজাদের ছেলে।

আদালতে হায়দার ইসলামের বিরুদ্ধে করা ৪৩৩/২৩ নং সিআর মামলার ডিবি কর্তৃক তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, বোয়ালখালী থানার মামলা নং-০২ তাং-০৩/০৮/২০২০ ইং ধারা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী/০৩) এর ৭/৩০ এর এজাহারে অভিযুক্ত আসামী এবং বোয়ালখালী থানার মামলা নং-০৬ তাং-১২/০৭/২০১৫ ইং ধারা: ১৪৩/৪৪৭/৩২৪/ ৩০৭/৩৭৯/৫০৬ পেনাল কোড এর এজাহারে অভিযুক্ত আসামী।

মামলার ভুক্তভোগী বাদী মো. আবদুল আলীম বলেন, হায়দার ইসলাম আমার মসজিদে মাঝে মধ্যে নামাজ আদায় করতে আসতো। এক সময় সে বলে সে নাকি (হায়দার) সাবেক প্রধান মন্ত্রী খালেদা জিয়ার বডিগার্ড ছিলো এবং সে সেনাবাহিনীর অফিসার ছিলো।

পরে কবিরাজি দান পাওয়ার পর থেকে কবিরাজি বা বৈদ্যগিরির কাজ শুরু করে। পরে এক সময় সে আমাকে কবিরাজি সমস্যা আছে বলে বিভিন্ন বাহানা দিয়ে বেশ কিছু টাকা হাতিয়ে নেয়।

এছাড়াও আমার ভাই-কে সেনাবাহিনীতে চাকরি দিবে বলে দুই লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। এবিষয়ে আমি বোয়ালখালী থানায় একটি জিডি করলেও তার কোনো প্রতিকার পাইনি। তার কাছে পাওয়া টাকা খুজতে গেলে সে বলে, পটিয়ার এমপি শামসুল হক তার ফুফাতো ভাই। আদালতে কৌসিক স্যার নামে নাকি একজন জজ আছে তার হাতে।

আমি নাকি তার বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলে আদালত মামলাও নিবে না তার বিরুদ্ধে! এক পর্যায়ে আমি এবিষয়ে আমার আইনজীবীর সাথে আলোচনা করলে উনি আমাকে বলেন, এসব হুমকি-দমকি আদালতে চলে না। আদালত স্বাধীন, কারো হস্তক্ষেপে আদালত চলে না।

আপনি প্রতিকার চাইলে মামলা করেন। পরে আমি আইনজীবীর পরামর্শে বিজ্ঞ আদালতে মামলা করি। আমি আশাবাদী বিজ্ঞ আদালত আমাকে ন্যায় বিচার দান করবে।

স্থানীয়রা জানান, মানুষের সাথে প্রতারণা করাটাই তার স্বভাব, এমন অভিযোগ তার বিরুদ্ধে নিয়মিত আসে। নাম প্রকাশ না করা শর্তে একজন বলেন, তারা ৬ ভাই হায়দার ছাড়া সবাই ভালো। কিন্তু হায়দার ইসলাম একজন প্রতারক। এই কারণে তার ভাইদের সাথে তার সম্পর্কটা ভালো না। পটিয়ার এমপি শামসুল হক তার ফুফাতো

ভাই মনে হচ্ছে এমন পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে সে।

শেয়ার করুন

Comments are closed.




দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ © All rights reserved © 2025 Protidiner Kagoj |