মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১০:০২ অপরাহ্ন
সুমন ভট্টাচার্য ও রেজাউল করিম রেজা : ময়মনসিংহে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচীর আওতায় প্রশিক্ষণ প্রদান না করিয়ে প্রশিক্ষণের লক্ষ লক্ষ টাকা সম্মানী গ্রহণ ও এক উপজেলার বাসিন্দাকে অন্য উপজেলায় দেখিয়ে এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ সঠিকভাবে যাচাই না করে ভুয়া এনআইডি ও সনদপত্রে প্রশিক্ষণার্থী ভর্তি দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ প্রশিক্ষণ ভাতা ও কর্মভাতা আত্মসাৎ করার ঘটনা ঘটেছে।
জানা যায়, অভিযুক্ত যুব কর্মকর্তাগণ প্রশিক্ষণ প্রদান না করে প্রশিক্ষণের লক্ষ লক্ষ টাকা সম্মানী গ্রহণ করেছেন এবং প্রতিটি ক্লাসের ৫০০ টাকার পরিশোধের উপর ১০ টাকা রেভিনিউ স্টাম্প দেওয়ার কথা থাকলেও তারা সরকারের আইন অমান্য করে এক একটি সম্মানী ভাউচারে ১০০-৬০০ টি সংখ্যক ক্লাস উল্লেখ করে সম্মানী ভাতা প্রদান ও গ্রহণ করেছেন। এর মাধ্যমে সরকার লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব হারিয়েছে।
৫ হাজার ক্লাসের ভাতা উত্তোলন।
প্রতি ক্লাসে ভাতা ৫০০ টাকা।
ক্লাস না করিয়েও ভাতা গ্রহণ।
দেওয়া হয়নি ৫ লক্ষ টাকা রাজস্ব।
অনুসন্ধানসূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহের সাবেক উপপরিচালক ফারজানা পারভীন (বর্তমানে নেত্রকোণা) এর ২০০০ টি ক্লাসে ৫০০ টাকা করে ১০ লক্ষ টাকা, সাবেক উপপরিচালক নুরুজ্জামান চৌধুরী (বর্তমানে শেরপুর) ৩০০০ টি ক্লাসে ১৫ লক্ষ টাকা, আরেক সাবেক উপপরিচালক জোহায়ের আলী ৩০০০ টি ক্লাসে ১৫ লক্ষ টাকা, গৌরীপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নন্দন কুমার দেবনাথ ১২৫৭ টি ক্লাসে ৬.২৮ লক্ষ টাকা, হালুয়াঘাট উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা (সাবেক ত্রিশাল) আবু জুলহাস ৮৩৩ টি ক্লাসে ৪.১৬ লক্ষ টাকা, সাবেক ফুলবাড়ীয়া উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নুর মোহাম্মদ ১০৮৫ ক্লাসে ৫.৪০ লক্ষ টাকা, সাবেক হালুয়াঘাট উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা ১০২৩ ক্লাসে ৫.১১ লক্ষ টাকা, সাবেক নান্দাইল উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আবু আহসান মোঃ রেজাউল হক ৩৯৬ ক্লাসে ২ লক্ষ টাকা, সাবেক তারাকান্দা উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল হক ৩২১ টি ক্লাসে ১.৬০ লক্ষ টাকা, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ আবুল বাশার ৩১১ টি ক্লাসে ১.৬৬ লক্ষ টাকা, সাবেক সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা (বর্তমানে নান্দাইল) ফয়েজ উদ্দিন ৫৩২ টি ক্লাসে ২.৬৬ লক্ষ টাকা উত্তোলন করেছেন।
এছাড়াও এক উপজেলার যুব কর্মকর্তাকে অন্য উপজেলায় ক্লাস প্রদানের নামে ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। যেমন- গৌরিপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নন্দন কুমার দেবনাথকে ফুলপুর উপজেলায় ন্যাশানাল সার্ভিস কর্মসূচির প্রশিক্ষণে ২২০ টি ক্লাস দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। কর্মকর্তাগণ লক্ষ লক্ষ টাকা অতিরিক্ত সম্মানী গ্রহণ করলেও তা আয়কর রিটার্নে উল্লেখ করেনি বলে প্রতীয়মান হয়েছে। ময়মনসিংহের দশ উপজেলায় ন্যাশানাল সার্ভিস কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় প্রশিক্ষণ বাবদ ৫০০০০ টি ক্লাসে ৫০০ টাকা করে ২৫০০০০০০ টাকা সম্মানী ভাতা প্রদান করা হয়েছে এবং প্রতিটি ক্লাসের ৫০০ টাকার সমমানী ভাতার উপর ১০ রেভিনিউ স্টাম্প টাকা হিসেবে ৫ লক্ষ টাকা রাজস্ব পাওয়ার কথা কিন্তু সরকার পায়নি।
এসব বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়ের ১০ এপ্রিল ২০২৩ইং তারিখের ০০.০১.৬১০০.৭৬২.০১.০৯৭.২৩.১৩৮৭২ নং স্মারকে দুর্নীতি দমন কমিশনের ময়মনসিংহ সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইসতেহাদ আহমেদকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরে তদন্ত কর্মকর্তা ইসতেহাদ আহমেদ ৫ মে ২০১০ইং থেকে ৩০ জুন ২০২১ইং তারিখ পর্যন্ত ময়মনসিংহ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচীর আওতায় বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত বরাদ্ধপত্র,বরাদ্ধকৃত অর্থের ব্যয় সংক্রান্ত ভাউচাসমুহ, প্রশিক্ষকদের নামের তালিকাসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাগজপত্র চেয়ে গত ৩০ এপ্রিল তারিখে ময়মনসিংহ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালককে চিঠি দেয়। রাজস্ব ফাঁকির ঘটনায় অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।