মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৮:৫০ পূর্বাহ্ন

টানা ৩ দিন নৌ-যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন সন্দ্বীপবাসী

টানা ৩ দিন নৌ-যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন সন্দ্বীপবাসী

মোঃ হাসানুজ্জামান সন্দ্বীপি: চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ ঘূর্ণিঝড় ‘রিমেল’ কান্ডে কার্যত অচল হয়ে পড়ে। গত ২৬ মে রবিবার রাত ৩টা থেকে দমকা বাতাস ও ঝড়ো বৃষ্টিতে গৃহবন্দি হয়ে পড়ে এখানকার বাসিন্দারা। ২৮ মে মঙ্গলবার সকাল ১০টার পর থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে থাকে।

রিমেল কান্ডে ২৬ মে রাত ৩ টা থেকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে সন্দ্বীপের সাড়ে চার লক্ষ বাসিন্দা। এ সময়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় জরুরি যোগাযোগ মাধ্যম মোবাইল ফোনের চার্জ চলে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়ে অধিকাংশ মানুষ। সে সাথে মূল ভূ-খন্ড চট্টগ্রামের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে সন্দ্বীপবাসী। সন্দ্বীপের প্রধান নৌ-ঘাট গুপ্তছড়া-কুমিরাঘাট কার্যত অচল হয়ে পড়ে। বৈরি আবহাওয়ার কারণে ২৬,২৭ ও ২৮ মে সম্পূর্ণরূপে নৌ যোগাযোগ বন্ধ থাকে। নৌ যোগাযোগ বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়ে জরুরি রোগীরা। এমনি একজন ১২ বছর বয়সী এক কিশোর। ২৬ মে নিজ বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে গরুতর আহত হয়ে সন্দ্বীপের একটি বেসরকারি হাসপাতাল চিকিৎসা নিতে বাধ্য হয়। অথচ ডাক্তারের রেফারেন্স ছিল দ্রুত উন্নত চিকিৎসা নেয়ার।

সন্দ্বীপের দক্ষিণ -পশ্চিম কোণে সারিকাইত ইউনিয়নের বাংলা বাজার এলাকায় জোয়ারের পানি বিস্তীর্ণ এলাকায় প্লাবিত হয়েছে। বেড়ীবাঁধের বাহিরে অবস্থানরত ৮-১০টি কাঁচাঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সন্দ্বীপের যেসব অঞ্চলে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গেছে ও বেড়ীবাঁধ উঁচু নয় এমন বাসিন্দারা আতঙ্কে দিনযাপন করেছে। ঘূর্ণিঝড়ে রহমতপুর ইউনিয়ন ০৩ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সুখদেব মহাজনের বাড়ির সমর মজুমদারের ঘরে গাছ ও বৈদ্যুতিক খাম্বা চাপা পড়ে। ঘর ভেঙ্গে ৪ জন মারাত্মক ভাবে আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহত ব্যক্তিদের কে চিকিৎসার জন্য মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানা যায়। রহমতপুর ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদুল মাওলা কিশোর এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

বিদ্যুৎ ও নৌ-যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকে। জিহাদ নামের একজন লিখেন,নাগরিকের অন্যতম মৌলিক অধিকার হলো চিকিৎসা। স্বাধীনতার ৫২ বছরেও সন্দ্বীপের ৫ লক্ষ মানুষের সেই চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত হয়নি। এখনো সন্দ্বীপের মানুষ উত্তাল সাগর পাড়ি দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শহরে আসতে হয় ইমার্জেন্সি চিকিৎসার জন্য। আবহাওয়ার কারণে যারা সেটা পারে না তারা অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু মেনে নিতে হয়।

রাষ্ট্রের কোষাগারে ১১-১৩% রেমিট্যান্স দেয়া একমাত্র দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপ আজো কেন চিকিৎসা ক্ষেত্রে এতটা অনুন্নত। অনতিবিলম্বে সন্দ্বীপে আইসিইউ সেবা চালু করা হোক অথবা সী-এ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করা হোক।আইসিইউ সেবা চালু করা আমাদের দাবী নয় এটা আমাদের অধিকার! সন্দ্বীপের আরেকজন অধিবাসী অধ্যাপক খালেদ মোহাম্মদ লিখেন,যেসব এলাকার বেড়িবাঁধ খুব একটা উঁচু নয়,ঐসব এলাকায় জরুরী ভিত্তিতে বেড়িবাঁধ দ্রুত নির্মাণ বা সংস্কারের দিকে নীতিনির্ধারকদের মনোনিবেশ করা প্রয়োজন।

ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইসমাইল জানান, ১৫০ টি কাঁচাঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৫০০০(পাঁচ হাজার) মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। যাদের স্থানীয়ভাবে শুকনো খাবার দেয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সরকারিভাবে সহযোগিতা করা হবে।

শেয়ার করুন

Comments are closed.




দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ © All rights reserved © 2025 Protidiner Kagoj |