বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ০১:৩০ পূর্বাহ্ন
সাইফুল ইসলাম, বাউফল : গ্রামাঞ্চলে বিভিন্ন রাস্তাঘাটে ছেড়া ময়লা জামা কাপড় পরিহিত কিংবা উলাঙ্গিত অবস্থায় মাণষিক রোগী দেখা গেছে। যাদের পাগল বলা হয়ে থাকে। শারীরিক ভাবে ভালো থাকলেও মাণষিক ভারসাম্যহীন। ঠিকমতো খাবার, পোশাক পরিচ্ছেদ নেই। নেই নাগরিক সেবা পাওয়ার অধিকার। যথাযথ চিকিৎসার অভাবে সুস্থ হয়ে উঠছে না। করছে মানবেতর জীবনযাপন।
সরেজমিনচিত্রে দেখা গেছে, বাউফল উপজেলার উপজেলার কালাইয়া, বাউফল, কনকদিয়া, বগা, নওমালা কালিশুরী বন্দরে ৩০ জন পাগল ঘুরে বেড়াচ্ছে। বেশির ভাগ কালাইয়া বগা, কালিশুরী বিলবিলাস বন্দরে ঘুরতে দেখা গেছে। যাদের পরনে ভালো কাপড় নেই। রাস্তার পাশে ঘুমিয়ে থাকে। কালাইয়া লঞ্চঘাট দেখা গেছে, ৫ ফুট বেশি লম্বার স্বাস্থ্যবান, ছেড়া প্যান্ড পড়া মুখে দাড়ি আছে। কারো কাছে খাবার চায়না। কেউ কিছু ইচ্ছে করে দিলে খায়। প্রায় ১০ বছর যাবৎ এখানে অবস্থান করছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছে। কোথায় বাড়ি ঠিকানা তা কেউ বলতে পারেনি। বাজারের মধ্যে ২৩/২৪ বছর বয়সী এক নারী। দোকানে দোকানে সামনে ঘুরছে। মুখে আবল তাবল বলে বেড়াচ্ছে। খিদে পেলে দোকানদার কাছে খাবার চেয়ে খেয়ে থাকে। দোকানদার নাম ঠিকানা সবাই জানলেও পত্রিকা না দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীগন।
বাউফল কলেজ সামনে ৫৫ বয়সী এক নারী ঘুরে বেড়াচ্ছে। ছেড়া ময়লা কাপড় পড়ে থাকে। উপজেলার বিলবিলাস বাজারে মাঝ বয়সী একনারী। পরনে সেলেয়ার কামিজ। ছেড়া পাটের চট দিয়ে পেছানো। সারদিন ডাক চিৎকার করে বেড়াচ্ছে। মাঝে মধ্যে ২/১ জন রুটি দিয়ে থাকে। দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর এ বন্দরে অবস্থান করছে। উপজেলার গোসিংগা গ্রামে আ: ছালাম চৌকিদার। ব্বংশগত ভাবে পাগল। তার পরিবারের সবাই এ রোগে ভুগছে।
জানাগেছে, মানষিক বা পাগল এর জন্য সরকারি কোনো নিবন্ধন নেই। নেই ভোটার তালিকায় নাম। মাণষিক রোগীর চিকিৎসার জন্য উপজেলা পর্যায় কোনো ডাক্তার নেই। পাবনা শহরে সহ বিভাগীয় পর্যায় চিকিৎসা দেওয়া হলো ব্যয়বহুল কারনে অনেকে শেষ পর্যন্ত চিকিৎসা নিতে পারে না। উপজেলায় পরিসংখ্যান বিভাগে মানষিক রোগীর সংখ্যার কোনো তথ্য নেই।
পাগল সমন্ধে বিজ্ঞদের মতামত হচ্ছে, মাণষিক রোগী বৃদ্ধির কারন হচ্ছে, পরিবারের বড় কোন শোকের কারণ ভারসাম্য হারিয়ে থাকে। প্রাথমিক ভাবে চিকিৎসা করলেও এরা সম্পূর্ণ রুপে সুস্থ হয়ে উঠেনা।
প্রত্যক্ষ দর্শী মন্তব্য হচ্ছে,পাগল বেওয়ারিশ। মানষিক রোগীর সেবা অধিকার নিশ্চিৎ করার জন্য কয়েকজন সুপারিশ হচ্ছে, মানষিক (পাগল) রোগীর তালিকা তৈরি করে একজন অবিভাবক নির্ধারন করে শর্তে সাপেক্ষে দেখাশুনার দায়িত্ব অর্পর করা। সরকারি ভাবে এ অভিভাবককে আর্থিক সাহায্য প্রদান করা। এবং সকলের সচেতন থাকা প্রয়োজন পাগল নয়! মানষিক রোগী। রোগী সেবা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।