মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪১ পূর্বাহ্ন
মোঃআসাদুজ্জামান তুহিন ,গাজীপুর
গাজীপুরে মাত্র তেরদিনে ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচন করে আসামী গ্রেফতার করেছে মহানগর পুলিশ। গত ০৫ মার্চ লাশ উদ্বার ০৬ মার্চ মামলা ১৬ মার্চ ক্লুলেস হত্যা মামলার আসামী গ্রেফতার করে রহস্য উন্মোচন করে সাফল্য দেখিয়েছে গাজীপুর মহানগর পুলিশ। গত ০৫-০৩-২০২৩ তারিখ সকাল ০৭:০০ টায় সদর থানা এলাকার পুর্ব দেশীপাড়া এলাকার বিমানের টেক এর মেহগনি বাগানের পশ্চিম পাশের ভিতরে একটি ১৬/১৭ বছরের ছেলের গলা কাটা রক্তাক্ত জখম অবস্থায় অঙ্গাতনামা লাশ পাওয়া যায়।
দ্রুত সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত শুরু করে। থানা পুলিশ যথারীতি লাশ স্বনাক্তে পার্শ্ববর্তী সকল থানায় বেতার মাধ্যমে সংবাদ দিলে বাসন থানায় এমন একটি ছেলে নিখোজ আছে মর্মে জানালে দ্রুত তাদের ঘটনাস্থলে আসার সংবাদ দিলে মো: হযরত আলী(৪৫)সহ তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত হয়ে লাশ দেখে তার মেঝ ছেলে জাহিদ (১৭), পিতা-মো: হযরত আলী, মাতা-কুচপুকুর বাবুলিয়া, থানা- সাতক্ষীরা সদর, জেলা- সাতক্ষীরা
বর্তমান ঠিকানা গ্রাম পশ্চিম চান্দনা (আবুল কাশেম মাষ্টার এর বাড়ীর ভাড়াটিয়া), থানা-বাসন, গাজীপুর মহানগর, গাজীপুর বলে স্বনাক্ত করেন। তিনি জানান যে তার ছেলে অটো রিক্সা নিয়ে গত ০৪-০৩- ২০২৩ তারিখ রাত ৮টার পর অটো চালানোর জন্য বাসা হতে বের হয়ে আর ফিরে আসে নাই। নিহতের পিতা হযরত আলীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে সদর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে একটি দস্যুতা পূর্বক হত্যা মামলা রুজু হয়। যার মামলা নং- ০৬ তারিখ ০৬-০৩-২০২৩ খ্রিঃ, ধারা ৩০২/৩৯৪/৩৪ পেনাল কোড ।
মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই উৎপল কুমার পিপিএমসহ সদর থানার একাধিক টিম অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ উত্তর) রেজওয়ান আহমেদ, পিপিএম এর নেতৃত্বে একটানা ৬ দিন ধরে তথ্য প্রযুক্তির বিশ্লেষণ ও তথ্য সংগ্রহ করে যাচাই-বাছাই করে জানা যায় যে, পূর্বে তদন্তে প্রাপ্ত সন্দেহভাজন আসামী মো: আল-আমিন হোসেন (২২) (যার বিরুদ্ধে ০৮টি ছিনতাইসহ অন্যান্য মামলা রয়েছে) তার ছোট বোনের সাথে নিহত জাহিদের বেশ কিছুদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে মর্মে জানায়। যার প্রেক্ষিতে নিহত জাহিদের বন্ধু রিফাত @ ডিজে রিফাতের সাথে শত্রুতা তৈরী হয়। এতে রিফাত সুযোগ খুজতে থাকে।
গত ০৪-০৩-২০২৩ তারিখ জাহিদের অটো রিক্সা নিয়ে রিফাত@ ডিজে রিফাত ও নাজমুল (@ কাটিং সহ অন্যান্যরা জয়দেবপুর ও চৌরাস্তা এলাকায় ঘুরে বেড়ায়। কোন ছিনতাই করতে না পেরে রাত অনুমান ১১:০০ ঘটিকার দিকে রিফাত এর পূর্ব শত্রুতাকে কাজে লাগিয়ে সহযোগীদের নিয়ে জাহিদকে তারই পরিহিত শার্ট দিয়ে হাত বেধে জবাই করে হত্যা করে এবং অটোরিক্সা ও সাথে থাকা মোবাইলসহ অন্যান্য জিনিস নিয়ে যায়। এই ঘটনায় প্রথমে আল-আমিনকে গ্রেফতার পূর্বক তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী রিফাত@ ডিজে রিফাতকে গত ১৫-০৩-২০২৩ তারিখ দুপুর ০২:৩০ ঘটিকায় সদর থানা এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ও অন্যান্য সহযোগীদের নাম প্রকাশ করে। পরবর্তীতে রিফাতকে নিয়ে অপর আসামী নাজমুল ওরফে কাটিং নাজমুলকে সদর থানার মারিয়ালী এলাকা হতে সন্ধ্যা ০৭:০০ ঘটিকায় গ্রেফতার করা হয়। তখন তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে নাজমুল এর ভাড়া বাসা হতে লুণ্ঠিত অটোরিক্সায় ব্যবহৃত সাউন্ড বক্স, নিহতের সাথে থাকা ব্লুটুথ এয়ারবাড, হত্যা করার সময় আসামী নাজমুল এর পড়নে থাকা সাদা রংয়ের রক্তমাখা শার্ট উদ্ধার করা হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদে আসামী নাজমুল হত্যাকাজে ব্যবহৃত রক্তমাখা সুইচ গিয়ার চাকু কলাপট্টি এলাকায় ময়লার স্তুপে লুকিয়ে রেখেছে বলে জানালে তার দেখানো মতে উক্ত রক্তমাখা সুইচ গিয়ার চাকুও উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে অপর আসামী রিফাত জানায় যে, ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উত্তর বিলাশপুর একটি ড্রেনে ফেলেছে। পরবর্তীতে তার দেখানো মতে ড্রেনের স্লাব তুলে ব্যাপক তল্লাশী করে মোবাইলটি পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায় যে, ছিনতাই ও টাকা ভাগ ভাটোয়ারা করাই ছিল তাদের মুলত পেশা। অটো বিক্রয়কারীর তথ্য সংগ্রহ করে যাচাই-বাছাই করে লুণ্ঠিত অটো উদ্ধার ও অন্যান্য পলাতক আসামী গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। গ্রেফতারকৃত আসামীরা প্রকৃতপক্ষে পেশাদার ছিনতাইকর্মী, তাদের নির্দ্দিষ্ট কোন ঠিকানা নাই। তদন্তে গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে পলাতক অপর দুই আসামীর তথ্য আপাতত প্রকাশ করা সম্ভব হলো না।
গ্রেফতারকৃত আসামীদের নাম ঠিকানা :-১ ) মো: রিফাত ওরফে ডিজে রিফাত(২১), পিতা-মৃত আকরাম হোসেন, মাতা-মৃত নাসিমা আক্তার, সাং-রওশনসড়ক বউবাজার, থানা-বাসন, বর্তমানে-সাং-উত্তর বিলাশপুর (সোহেল এর বাড়ীর ভাড়াটিয়া), থানা-সদর, গাজীপুর মহানগর, গাজীপুর এবং আসামী ২) মো: নাজমুল হাসান ওরফে কাটিং(২১), পিতা-মো: ফজল ভান্ডারী, মাতা-নাজমা বেগম সাং-নরুন, থানা-কালিগঞ্জ, জেলা-গাজীপুর বর্তমানে সাং- রুমের ভাড়াটিয়া), সদর থানা, জিএমপি, গাজীপুর (ভাসমান)। ২-মারিয়ালী জামতলা।