মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৭:৩৯ অপরাহ্ন

লেখাপড়ার জন্য বিদেশে পাঠানো হচ্ছে শুনেই রাবেয়াকে খুন করে সাইদুল

লেখাপড়ার জন্য বিদেশে পাঠানো হচ্ছে শুনেই রাবেয়াকে খুন করে সাইদুল

লেখাপড়ার জন্য বিদেশে পাঠানো হচ্ছে শুনেই রাবেয়াকে খুন করে সাইদুল!

নিজস্ব সংবাদদাতা:  গাজীপুরের সালনায় বাসায় ঢুকে কলেজছাত্রী রাবেয়া আক্তারকে (২১) হত্যা এবং নিহতের মা-দুই বোনকে ছুরিকাঘাতে মারাত্মক জখমের ঘটনায় আসামি মো. সাইদুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। বুধবার (১০ মে) টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার (১১ মে) রাজধানীর কাওরান বাজার মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। তিনি বলেন, সোমবার (৮ মে) রাতে রাবেয়াকে ছুরিকাঘাতে হত্যা এবং তার মা ও দুই বোনকে ছুরিকাঘাতে মারাত্মক জখম করে সাইদুল ইসলাম। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা আবদুর রউফ বাদী হয়ে গাজীপুর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। খন্দকার আল মঈন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তি জানায়, ২০২০ সালে করোনাকালীন সময়ে পরিবারের সবার আরবি শিক্ষার জন্য গৃহশিক্ষক হিসেবে তাকে নিয়োগ দেন রাবেয়ার বাবা। আরবি পড়ানোর সুবাদে সে প্রতিনিয়ত তাদের বাসায় যাওয়া-আসা করতো। পরে পরিবারটির সঙ্গে তার সুসম্পর্ক তৈরি হয়। অভিযুক্ত সাইদুল বিভিন্ন সময় রাবেয়াকে উত্যক্ত করতো এবং এক পর্যায়ে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। পাঁচ-ছয় মাস আরবি শেখানোর পর পড়ানো বন্ধ করে দেয় সে। পরে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে প্রতারণা করে মৌখিকভাবে বিয়ে করে।

তিনি বলেন, বিয়ের বিষয়টি সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে রাবেয়া ও তার পরিবারকে চাপ দেয় সাইদুল। অসৎ উদ্দেশ্যের বিষয়টি জানতে পেরে ওই শিক্ষার্থী সাইদুলের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। বিভিন্ন সময় উত্ত্যক্ত করার বিষয়ে ২০২২ সালের অক্টোবরে গাজীপুর সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী রাবেয়া। যার পরিপ্রেক্ষিতে সাইদুল কিছুদিন তাকে উত্ত্যক্ত করা থেকে বিরত থাকে। গত দুই মাস ধরে পুনরায় উত্ত্যক্ত করতে থাকে। তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় প্রাণনাশের হুমকিও দেয়। এক পর্যায়ে সাইদুল জানতে পারে উচ্চশিক্ষার জন্য রাবেয়াকে দেশের বাইরে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে পরিবার। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ৮ মে সন্ধ্যায় রাবেয়ার রুমে ঢুকে মাথা, গলা, হাত ও পায়ে ছুরিকাঘাত করে। এ সময় ডাক-চিৎকারে মা ও দুই বোন রাবেয়াকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে তাদেরও ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় সাইদুল। ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালে গাজীপুরের জয়দেবপুরে একটি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি পাস করেন রাবেয়া। পরে গাজীপুর চৌরাস্তার একটি কলেজে স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত ছিলেন। পড়ালেখার পাশাপাশি স্থানীয় একটি বিউটি প্রোডাক্টস অনলাইন শপে চাকরি করতেন।

এছাড়াও উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি দিচ্ছিলেন। ইতালির ভিসাসহ আনুষঙ্গিক কাগজপত্র প্রস্তুত করছিলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সাইদুল হত্যার ঘটনা ঘটায়। গ্রেফতার সাইদুল চট্টগ্রামের একটি মাদ্রাসা থেকে দাওরা পাস করে। সে গাজীপুরের একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতার পাশাপাশি স্থানীয় একটি মসজিদে ইমামতি করতো এবং এলাকার বিভিন্ন বাসায় গিয়ে প্রাইভেট পড়াতো। দুই মাস আগে সে দুটি চাকরিই ছেড়ে দেয়। ঘটনার পর থেকে ভূঞাপুরে বন্ধুর বাসায় আত্মগোপনে ছিল। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে প্রতারণা করে মৌখিকভাবে ওই শিক্ষার্থীকে বিয়ে করে অভিযুক্ত সাইদুল- র‌্যাব এমন দাবি করলেও গাজীপুর মেট্রো সদর থানার এসআই আবু সাঈদ জানান, ওই শিক্ষার্থীর বাবা আবদুর রউফ তার ছোট দুই মেয়ে খাদিজা ও জান্নাতের কোরআন শিক্ষার জন্য অভিযুক্ত সাইদুলকে গৃহশিক্ষক হিসেবে রাখেন। কোরআন পড়ানোর জন্য বাসায় যাওয়ার সুবাদে রাবেয়াকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় সাইদুল। পারিবারিকভাবে প্রস্তাবে রাজি না হয়ে তাকে পড়ানোর জন্য নিষেধ করা হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সাইদুল বিয়ের জন্য চাপ দেয় এবং ওই শিক্ষার্থীকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করে।

শেয়ার করুন

Comments are closed.




দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ © All rights reserved © 2025 Protidiner Kagoj |