বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৯:১৬ পূর্বাহ্ন
শাহাদুল ইসলাম সাজু, জয়পুরহাট : জয়পুরহাট কালেক্টর চত্বরে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ১৯৮০ সালে নির্মাণ করা হয় দুটি ভবন। গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধানে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত তিনতলা ভবনে রয়েছে ১২টি ফ্ল্যাট। কয়েক বছর পর থেকে ভবন দুটিতে আর কোনো কর্মকর্তাকে থাকতে দেখা যায়নি। প্রায় দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে ভবন দুটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। বছরের পর বছর জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকা ভবন বর্তমানে সৃষ্টি হয়েছে ভুতুড়ে পরিবেশ ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদকসেবীসহ বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপের অভয়ারণ্যে পরিনত হয়েছে সরকারি এ বাসভবন। এটা এখন এলাকা বাসীর জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভবন দুটি সংস্কার করে বসবাসের উপযোগী করার দাবি এলাকাবাসীর হলে সরকারও এ থেকে রাজস্ব পাবে । জয়পুরহাট গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. ফারজানা আকতার বলেন, ‘অনেক বছর ধরে ভবন দুটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ সরজমিন দেখা গেছে, ভবন দুটির দরজা-জানালা চুরি হয়ে গেছে। আগাছা-লতাপাতায় জনশূন্য ভবন দুটিতে এখন সাপ আর পোকামাকড়ের বসবাস।
আরও পড়ুন: দু-একটি ছাড়া চলছে না দূরপাল্লার বাস
স্থানীয় বাসিন্দা বাবু, আরাফাত, সবুজ, আতিক, বাবুসহ অনেকে জানান, ভবন দুটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত থাকায় আগাছায় ভরে গেছে । ময়লা-আবর্জনার পাশাপাশি মরিচা ধরে নষ্ট হচ্ছে ভবন। চুরি হয়ে যাচ্ছে লোহার জানালা-দরজাসহ অন্যান্য সামগ্রী। এলাকাবাসীর অভিযোগ দিনে ও রাতে মাদকসেবীদের আনাগোনা সহ চলে অসামাজিক কার্যকলাপ। নিরাপদে চলাফেরা করা যায় না। ভবন দুটির নিকটতম প্রতিবেশী জয়পুরহাট জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নৃপেন্দ্রনাথ মণ্ডল বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ভবন দুটি পরিত্যক্ত থাকায় অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আমার কাছে আসে। ভবন দুটি সংস্কার করলে সরকার রাজস্ব পাবে, পাশাপাশি এলাকার পরিবেশও ভালো হবে।