বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৮:৩৪ পূর্বাহ্ন

ত্রিশালে মাদক ব্যবসায় ছাত্রলীগের সাবেকরা

ত্রিশালে মাদক ব্যবসায় ছাত্রলীগের সাবেকরা

নিজস্ব সংবাদদাতা : ময়মনসিংহের ত্রিশালের মঠবাড়িয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি মনিরুল ইসলাম রুবেলকে ইয়াবাসহ আটক করেছে ডিএমপি গোয়েন্দা পুলিশ । কক্সবাজারে ত্রিশাল ছাত্রলীগের ‘আনন্দ ভ্রমণ’ শেষে ফেরার পথে ২০২০ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ভোরে ‘নিখোঁজ’ হন রুবেল। তার বাবা তোফাজ্জল হোসেন অভিযোগ করেছিলেন, তার ছেলেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ধরে নিয়ে গেছে। পাঁচ দিন পর জানা যায়, রাজধানী ঢাকার উত্তরা হাউজবিল্ডিং এলাকায় মনিরুল ইসলাম রুবেলকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এ ঘটনায় রুবেলের বিরুদ্ধে হাতিরঝিল থানায় মামলা হয় মাদকদ্রব্য আইনে । গ্রেফতারের সময় তার নিকট থেকে ৬ হাজার ৪৫০টি ইয়াবা জব্দ করে ডিবি পুলিশ। জানা গেছে, ময়মনসিংহ-৭ আসনের সাবেক এমপি রুহুল আমিন মাদানীর ছেলে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাসান মাহমুদের নেতৃত্বে ২০২০ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি উপজেলা ছাত্রলীগের নেতারা কক্সবাজারে যান। রুবেলও তাদের সঙ্গে ছিলেন। গোপন সংবাদ পেয়ে ডিবি পুলিশ তাকে আটক করেন। ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রুবেলকে জিজ্ঞাসাবাদ কালে আরও ৪/৫ জনের নাম প্রকাশ করেন। ছাত্রলীগের ‘আনন্দ ভ্রমণ’ শেষে ফেরার পথে ইয়াবার চালান নিয়ে আসেন। ডিবি পুলিশের জিজ্ঞাসা বাদে রুবেল ইতিপূর্বে আরও ৯ বার ইয়াবার বড় চালান ত্রিশালে নিয়ে আসেন।

মাদক কারবারে সরাসরি জড়িত ছিলেন উপজেলা ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাসহ ১৫ জন। তারা কয়েকজন বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। ইমরান হোসেন ও রুবেল জামিনে বের হয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাবেক এমপিপুত্র হাসান মাহমুদের সাথে রাজনীতিতে আবারও সক্রিয় হয়। অভিযোগ আছে, ত্রিশাল উপজেলায় ২২ টি স্থানে ইয়াবা সরবরাহ করে তাদের বেতনভুক্ত ৯৮ জন যুবক। তারাই আবার বিভিন্ন সময় মিছিল মিটিং এ অংশ গ্রহন করে। এদিকে ত্রিশাল উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেনসহ চারজনকে হেরোইন বিক্রির সময় হাতেনাতে আটক করেছে ত্রিশাল থানা-পুলিশ। ২০২২ সালের ৩ ই মার্চ বুধবার রাতে পৌরসভার নওধার এলাকার মাইক্রোস্ট্যান্ড থেকে তাদের আটক করা হয়। আটকৃতরা হলেন—ইমরান হোসেন, কবির হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান রাজন ও মাহবুব হোসেন।

ত্রিশাল থানা-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হেরোইন বিক্রির সময় তাদের আটক করা হয়। এরপর গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে আসামিদের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দিয়ে ময়মনসিংহ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়। ত্রিশালে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক বেশ কয়েকটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে মাদকের। এসব সিন্ডিকেটের অনেকটির নেতৃত্বে রয়েছে ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা। সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। দ্রুত এসব সিন্ডিকেটের সদস্যদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। যদিও ছাত্রলীগের ওই সব নেতারা মাদকের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন থেকে ত্রিশালে মাদক ব্যবসা করে আসছে। তাদের টার্গেটে থাকে বিত্তবানদের ছেলেমেয়েরা। প্রথমে এসব ছেলেমেয়েদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে পরে কৌশলে তাদের ইয়াবায় আসক্ত করা হয়। নির্দিষ্ট চেইনের মাধ্যমে মাদকদ্রব্য সরবরাহ করা হয়। ব্যবহার করা হয় মেসেঞ্জার ও ইমো। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছরের শেষের দিকে প্রতিবেদনটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এরপর অপর একটি গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে যাচাই করে তা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরে পাঠানো হয়। পাশাপাশি প্রতিবেদনে থাকা মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়।

শেয়ার করুন

Comments are closed.




দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ © All rights reserved © 2025 Protidiner Kagoj |