দিপু মন্ডল -যশোর : যশোরের মুক্তেশ্বরী নদী আর আগের মতো নেই।পূন সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী এক সময় এ নদীতে থৈথৈ পানিতে মাছের বিচরণ ছিলো চোখে পড়ার মতো। নির্মল পানিতে মানুষে চোখ জুড়িয়ে যেতো। আর সেই নদীই এখন কচুরিপানাসহ, শৈবাল, শ্যাওলা, জলজ উদ্ভিদের দখলে। কচুরিপানা, শৈবাল, শ্যাওলা আর বর্জ্য, ময়লা-আর্বজনায় সৌন্দর্য্য হারাতে বসেছে। যশোর জেলা শহরের পাশ দিয়ে বয়ে চলা মুক্তেশ্বরী শতভাগ এখন কচুরিপানা, শৈবাল, জলজ উদ্ভিদের দখলে। এই নদীর এক সময় পূর্ণ যৌবন ছিলো। নদীর তীরঘেঁষা গ্রামের কিছু কিছু মানুষ জানান আমাদের মুক্তেশ্বরী নদী খনন হলে কিছু দালিলিক ভূমির ক্ষতি হলেও বেশির ভাগ মানুষের জন্য লাভ হবে। চাষাবাদে চাষিদের সেচের সুবিধা বাড়বে জেলেরা এই নদী থেকে মাছ আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নদী ও নদীর পাড় রক্ষণাবেক্ষণ যথাযথ দেখভালের অভাবে ১০/১২বছরের মধ্যেই কচুরিপানা, শৈবাল, শ্যাওলা (জলজ উদ্ভিদ)
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্মকর্তাদের সদয় দৃষ্টি না। থাকায় হয়তো যে উদ্দেশ্য নিয়ে পুন:খনন করা হবে তার কোনটিই বাস্তবায়িত হচ্ছে না বলে দাবী করছেন পরিবেশবাদীরা নদী পুন:খনন যশোরের মনিরামপুর উপজেলার অংশের
৪০ কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় ৩০/৩৫ কিলোমিটার জুড়েই রয়েছে কচুরিপানা, শৈবাল, শ্যাওলায় (জলজ উদ্ভিদ) আচ্ছাদিত। দেখলে যেন মনে হয় কচুরিপানা, শৈবাল, শ্যাওলায় (জলজ উদ্ভিদ) আনন্দে মাতামাতি করছে, মনে হয় না যেন পুনঃযৌবন ফিরে পাওয়া সেই মুক্তেশ্বরী নদী। কচুরিপানা, শৈবাল, শ্যাওলাকে বুকে নিয়ে মোহনা বয়ছে যেন বহু কষ্টে মুক্তেশ্বরী নদী। নদী রক্ষায় সংশ্লিষ্ট বিভাগ যেন পুনঃ খননকৃত যৌবন ফিরে পাওয়া মুক্তেশ্বরী নদীটির দিকে সদয় দৃষ্টি দেয়। এবং কচুরিপনাসহ জলজ উদ্ভিদগুলো অতিদ্রুত পরিস্কার করেন নদীর তীর রক্ষার জন্য সু-ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এমন আশা করছে এলাকার সচেতনমহল। কর্তৃপক্ষের ধীরে চলা নীতিতে যশোরের বুকে বয়ে চলা মুক্তেশ্বরী নদীর নদীটি তার যৌবন যেন আবারো হারাতে বসেছে। কচুরিপানা, শৈবাল ও বর্জ্য ময়লা-আবর্জনা এ যেন নদী ভরাট এরই এক নামান্তর। এতে নদীর ¯্রােত প্রবাহ যেমন বাঁধায় পড়ছে।
জানা যায়, মুক্তেশ্বরী নদী বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যশোর জেলার একটি নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য ৪০ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ৪২ মিটার এবং নদীটির প্রকৃতি অনেকটা সর্পিলাকার। যশোরের চৌগাছা উপজেলার জগদীশপুর বাঁওড়ের পাশ দিয়ে সলুয়া বাজার সংলগ্ন এলাকা হয়ে যশোর সদর উপজেলার আরবপুর ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মণিরামপুর উপজেলার কাশিমনগর ইউনিয়নের বাদিয়াতলা বিলাঞ্চল হতে উৎপত্তি লাভ করেছে। অতঃপর এই নদীর জলধারা একই জেলার যশোর সদর উপজেলা পেরিয়ে মণিরামপুর উপজেলার ঢাকুরিয়া-হরিদাসকাটি-কুলটিয়া ইউনিয়ন হয়ে অভয়নগর উপজেলার পায়রা ইউনিয়ন পর্যন্ত প্রবাহিত হয়ে টেকা-হরি নদীতে নিপতিত হয়েছে।
সরেজমিনে নদীর পাড় ঘুরে দেখা গেছে, এক সময়ের খরস্রোতা মুক্তেশ্বরী নদীতে এখন কোন পানি প্রবাহ নেই। আবর্জনা আর কচুরিপানায় ভরপুর নদীটি মৃতপ্রায়। নদীর দুপাশে কোথাও কোথাও দখলে নদীর আয়তনও সংকুচিত হচ্ছে। আবর্জনা ও কচুরিপানা পচে নদীর পানিতে দুর্গগ্ধ ছড়াচ্ছে। নদীর পানি খাবার ও গোসলের অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। পচা কচুরিপানার দুর্গন্ধে নদীর পাড়ে বসবাস করা দুষ্কর পড়ে পড়েছে। নদীর পানি পরিণত হয়েছে মশার প্রজনন ক্ষেত্রে। গত ছয় সাত বছর ধরে এ নদীতে নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। কচুরিপানার জঞ্জালে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে মরে যাচ্ছে নদীটি। হুমকিতে পড়েছে জলজ জীববৈচিত্র। নদীর তীরবর্তি স্থানের মানুষের দাবি, দ্রুত নদীর আবর্জনা ও কচুরিপানা পরিষ্কার করা হোক। তা না হলে নদীর পরিবেশের যে ভারসাম্য তা নষ্ট হয়ে যাবে। নদী বাচাঁতে হলে নদী সংরক্ষণ করতে হবে এবং নদীর প্রণোচ্ছলতা ফিরে আনতে হবে।
নদীর পাশে হরিদাসকাটি ইউনিয়নের ( কৃষক লীগের সভাপতি সুকৃতি রায় ) বলেন, বিগত দিনে এই নদীর শালা পরিষ্কারের জন্য অনেক টাকা বরাদ্দ দিয়েছিল এই অতদা অঞ্চলের নদীর পাশের মানুষের দুর্ভাগ্য সেই টাকায় কোন কাজ হয়নি সে টাকা ব্যক্তিগত কয়েকজন রাজনৈতিক নেতারা আত্মসাৎ করে। বর্তমান যে জাতীয় সংসদ নতুন হয়ে আসছে উনার কাছে বিনীত অনুরোধ ভগদা থেকে ঢাকুরিয়া পর্যন্ত শ্যাওলা যাতে পরিষ্কার হয় তার জন্য আপনি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। ও কচুরিপানার কারণে নদীর পানি পঁচে গন্ধ হয়ে নদীর পানি বিষাক্ত হয়ে গিয়েছে। এতে মশা মাছির সংখ্যা বাড়ছে। ঠিক তেমনি নদীর মাছ নষ্ট হয়ে মরে যাচ্ছে। সবাই এ কচুরিপানার ভরাট হওয়ার কারণে। নদীর প্রাণ আগের মতো ফিরে আনতে হলে নদী সংরক্ষণ করতে হবে।