মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১২:৪৮ অপরাহ্ন
নিজস্ব সংবাদদাতা: গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি, ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ সূর্যসন্তান, যারা জুলাই- আগস্টে২০২৪ নতুন স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য স্বৈরাচার হাসিনাকে হঠানোর আন্দোলন করতে গিয়ে আহত ও নিহত হয়েছে। ছাত্র জনতার হাত ধরে অর্জিত হওয়া এ স্বাধীনতা আমাদের জন্য অনেক গৌরব ও সম্মানের, আমরা এমন একটা দিনের প্রতীক্ষায় ছিলাম এমন আনন্দময় দিন ও ক্ষনে যারা জুলাই- আগস্টে নতুন স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য স্বৈরাচার হাসিনাকে হঠানোর আন্দোলন করতে গিয়ে আহত ও নিহত হয়েছে। ছাত্র জনতার হাত ধরে অর্জিত হওয়া এ স্বাধীনতা আমাদের জন্য অনেক গৌরব ও সম্মানের, আমরা এমন একটা দিনের প্রতীক্ষায় ছিলাম এমন আনন্দময় দিন ও ক্ষনে আগস্টের ৫ তারিখ থেকে পরিষদে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন চেয়ারম্যান মোরশেদুর রহমান চৌধুরী। তিনি বলেন, জনগণের চাহিদানুযায়ী নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিয়ে যাচ্ছি। ঠিক সেই মুহূর্তে গত কয়েকদিন আগে আমার বিরুদ্ধে ”দৈনিক আজাদী” পত্রিকায় একটি সংবাদ প্রচার হয়। যার শিরোনাম ছিলে, ”সাতকানিয়া উপজেলা বিএনপির স্মারকলিপি- ছদাহা ইউনিয়ন এর চেয়ারম্যান অপসারণের দাবি” প্রকাশিত সংবাদ একটি মনগড়া, ভিত্তিহীন, কাল্পনিক ও উদ্দেশ্যপ্রনোদিত সংবাদ। যার সাথে আমার নির্বাচনী এলাকা ছদাহার কোন লোক সম্পৃক্ত নাই।
যারা আমার নামটা পর্যন্ত শুদ্ধভাবে জানেনা। আমি যাদের সাথে অবগত নই তারাই সাতকানিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিভিন্ন কল্পকাহিনী সাজিয়ে যে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করেছে তাতে আমি এবং আমার এলাকার জনগণ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আপনারা জানেন পতিত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে দেশের কোথাও কোন নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতো না। নৈরাজ্য ও গায়ের জোরে আওয়ামী বাহিনীর সহায়তায় ইলেকশনে যে কোন মূল্যে নৌকাকে জিতিয়ে দিতো। আপনারা জানেন ছদাহা ইউনিয়ন জামাত-বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তারা তাদের রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে, নৌকাকে ফাঁকা মাঠ ছেড়ে না দিয়ে আমার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে অনেকটা জোর করে আমাকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে এনে নৌকার বিরুদ্ধে দাঁড় করায়। সম্পূর্ন প্রতিকূল নির্বাচনী পরিবেশে স্রোতের বিপরীতে গিয়ে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলে ২২দিনের নির্বাচনে তারা আমাকে জিতিয়ে আনে। তখন আওয়ামী স্বৈরাচারের নেতা-কর্মীরা আমাকে জামাত-বিএনপির দোসর বলে ট্যাগ লাগিয়েছিলো। দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকেই আমি সর্বদা জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুত ওয়াদা রক্ষায় নিরন্তন কাজ করে যাচ্ছি। প্রিয় ভাইয়েরা, এক জন চেয়ারম্যান হচ্ছে একটি রাষ্ট্রের প্রথম স্তরের শাসন ব্যবস্থার প্রতিনিধি।
নির্বাচনী ওয়াদা অনুযায়ী ইউনিয়নের রাস্তা-ঘাট, ব্রীজ, কালভার্ট ও অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য সদা তৎপর থাকায় সরকারী বরাদ্ধে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের ধারা অব্যাহত রাখতে প্রটোকলের অংশ হিসেবে কোন রাজনৈতিক দলের নেতা বা কর্মীর সাথে ছবি থাকলে তা রাজনৈতিক রং দিয়ে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা অত্যন্ত দুঃখজনক, নিন্দনীয় ও ঘৃন্য কাজ। তৎকালীন ক্ষমতাসীনরা ক্ষমতাকে এমনভাবে ব্যবহার করেছে, তাদের কাছে গিয়ে ধর্না না দিলে, বিএনপি জামাত উল্লেখপূর্বক আমাদেরকে নাজেহাল করত। তাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠান পালনের জন্য আমাদের বাধ্য করতো, এমনকি তাদেরকে ফুল দিয়ে বরণের জন্যও আমাদের চাপ সৃষ্টি করতো। এমন কিছু ছবি সামাজিক মাধ্যম থেকে সংগ্রহ করে আমার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক রঙ লাগিয়ে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা অত্যন্ত দুঃখজনক নিন্দনীয় ও ঘৃণ্য কাজ। আমি আবারও এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ছাত্র জনতার আন্দোলনের কারণে স্বৈরাশাসকের পতন হলে, স্বৈরাশাসকের সকল নেতাকর্মী আত্মগোপনে বা নির্ভাসনে চলে যায়। আমি যদি ঐই স্বৈরাশাসকের দোসর হতাম নতুন স্বাধীনতার দিন থেকে অদ্যাবধি ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতে চালিয়ে যেতে পারতাম না এবং ৫ তারিখের পর আমি একদিনও অত্র ইউনিয়ন পরিষদে অনুপস্থিত ছিলাম না।
আমার ইউনিয়নের শান্তির শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য আমার পরিষদের সহকর্মী ও এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিদের নিয়ে আমি সর্বাত্মক কাজ করে যাচ্ছি। যার ফলস্বরূপ সাতকানিয়াতে অন্যান্য ইউনিয়ন চেয়ারম্যানেরা অনুপস্থিত বা আত্মগোপনে চলে যাওয়ার কারনে সরকার প্রশাসক নিয়োগ করেন, আর জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি আমার দায়িত্বে বহাল আছি এবং কাজ করে যাচ্ছি। এটা আমার জন্য যেমন সম্মানের, তেমনি ছদাহা ইউনিয়নের আপামর জনসাধারণের জন্য ও সম্মানের। আমি এই বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনকে ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
এতকিছু সত্ত্বেও আমার বিরুদ্ধে যখন সাতকানিয়া উপজেলা বিএনপি’র একটি অংশ অভিযোগ করেছে বলে জানিতে পারি, তখন আমি জামাত বিএনপি’র নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ করি, জামাতের সকল নেতৃবৃন্দ আমাকে সমর্থন যুগিয়েছে এবং আমার উপর আস্থা আছে বলে জানিয়েছে। আপনারা জানেন সাতকানিয়া বিএনপি’ চারটি গ্রুপে বিভক্ত, একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দেয় মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান, অন্য গ্রুপের অধ্যাপক শেখ মোঃ মহিউদ্দিন। আরেকটা অংশের নেতৃত্বে দেন আলহাজ্ব গফফার চৌধুরী। সর্বশেষ যে অংশ আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে তার নেতৃত্ব দেন জামাল হোসেন।
এদের তিনটি গ্রুপের প্রধানেরা আমাকে আশ্বস্ত করেছে এবং প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছে। তারা জানান বিএনপি জনগণের দল, ছদাহার জনগণ যদি আপনাকে চায়, তারা যদি আপনার বিরুদ্ধাচরণ না করে, আপনি যদি স্বাভাবিক কাজ চালিয়ে যেতে পারেন, তাহলে তো আমাদের বা অন্য কারো আপত্তি থাকার কথা না,,ছদাহার স্থানীয় জনগণ নির্ধারণ করবেন আপনি কি অপসারণ হবেন না থাকবেন। আমি উপরোক্ত তিন গ্রুপের কথায় সন্তুষ্ট, যেহেতু ছদাহার আপামোর জনসাধারণ আমার উপর আস্থা রেখেছে, আমার পাশে থেকে আমাকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে, উক্ত অভিযোগপত্রে ছদাহার কোন মানুষের বিন্দুমাত্র সংশ্লিষ্টতা নাই বলে প্রমাণিত তাই আমার বিরুদ্ধে আনিত মিথ্যা অভিযোগ নিঃসন্দেহে ভুয়া, বানোয়াট, মনগড়া গল্প কাহিনী তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন লোক মাধ্যমে আমার কাছে অযৌক্তিক সংবাদ পাঠাতো, যেগুলো আমি বিগত দিনে আমলে নিই নাই, সম্ভবত এই কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে আমার বিরুদ্ধে মানহানিকর অভিযোগ করে সংবাদপত্রে প্রচার করেছে।
যেটা নিয়ে আমি মোটেও চিন্তিত নই। আমি আমার স্বাভাবিক কাজের দ্বারা অব্যাহত রাখার প্রত্যয়ী উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে আমার বক্তব্য কানে শেষ করলাম। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন! বাংলাদেশ জিন্দাবাদ। আমি উপরোক্ত তিন গ্রুপের কথায় সন্তুষ্ট,,, যেহেতু ছদাহার আপা মোর জনসাধারণ আমার উপর আস্থা রেখেছে,,,, আমার পাশে থেকে আমাকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে,,, উক্ত অভিযোগ পত্রে ছদাহার কোন মানুষের বিন্দুমাত্র সংশ্লিষ্টতা নাই বলে প্রমাণিত,,, তাই আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ নিঃসন্দেহে ভুয়া, বানোয়াট, মনগড়া গল্প কাহিনী,,, । যেটা নিয়ে আমি মোটেও চিন্তিত নই।। আমি আমার এলাকার জনসাধারণকে সাথে, সুন্দর একটি সুখী সমৃদ্ধ মডেল ছদাহা গঠন করতে চাই। এই লক্ষে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও রাজনীতিবিদদের সহযোগিতা চাই। আমি ব্যক্তিগতভাবে কারো সাথে শত্রুতা পোষণ করতে রাজি নই । ছাত্রজনতার স্বাধীন স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার লক্ষ নিয়ে বাকি সময়টুকু কাজ করে এগিয়ে যেতে চাই। এনিয়ে স্বাভাবিক কাজের ধারা অব্যাহত রাখার প্রত্যয়ে, উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে,,, আমার বক্তব্য এখানে শেষ করলাম। আল্লাহ হাফেজ বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।