শ্রীবরদীতে সাংবাদিককে হত্যার হুমকি যুবদল নেতার, থানায় অভিযোগ

ময়মনসিংহ অফিস , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ১১ নভেম্বর, ২০২৫, ১১:৪৪ পিএম

সাংবাদিক খাইরুল ইসলাম (বামে), যুবদল নেতা আব্দুল আজিজ ওরফে সোহেল (ডানে)।

শেরপুরের শ্রীবরদীতে সম্প্রতি সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকির ঘটনা বেড়েই চলেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের আশ্রয়ে এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলেও প্রশাসনের নীরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাংবাদিক সমাজের অভিযোগ পুলিশের গাফিলতি ও নিষ্ক্রিয়তার কারণেই অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

হুমকির শিকার দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের সংবাদদাতা খাইরুল ইসলামকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন শ্রীবরদী উপজেলার রানীশিমল ইউনিয়ন ৩ নং ওয়ার্ডের যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজ ওরফে সোহেল। এ ঘটনায় সাংবাদিক খাইরুল ইসলাম বাদী হয়ে গতকাল মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) শ্রীবরদী থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ এখনও কোনো আইনি ব্যবস্থা নেননি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত এক মাসে অন্তত তিনজন স্থানীয় সাংবাদিক বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশের পর হুমকি ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এদের মধ্যে কেউ কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রশাসন নীরব থেকেছে। ফলে হুমকিদাতারা আরও সাহসী হয়ে উঠেছে।

একাধিক সাংবাদিক অভিযোগ করে বলেন, “আমরা সত্য সংবাদ প্রকাশ করলেই রাজনৈতিক নেতারা ফোনে গালাগাল করেন, কখনও আবার অনুসারীদের দিয়ে ভয় দেখান। থানায় অভিযোগ দিলেও ওসি সাহেব শুধু বলেন ‘খোঁজ নিচ্ছি’, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেন না।”

শ্রীবরদী প্রেসক্লাবের এক নেতা বলেন, “সাংবাদিকরা এখন মাঠে কাজ করতে ভয় পাচ্ছেন। একের পর এক হুমকি, মামলা আর হয়রানিতে স্বাধীন সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রশাসন নীরব থাকলে আমরা আরও ঝুঁকির মুখে পড়ব।”

সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশের প্রধান মো. খায়রুল আলম রফিক বলেন, শ্রীবরদীতে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা এখন প্রকাশ্য সত্য। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে এই নীরবতা একসময় ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে উপজেলা বিএনপি কোন ব্যবস্থা না নিলে প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় বিএনপির মহাসচিব বরাবরে লিখিত অভিযোগ দেয়া হবে। 

এ বিষয়ে শ্রীবরদী থানার ওসি মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, “সাংবাদিকদের দেওয়া অভিযোগ যাচাই করে দেখা হচ্ছে।”স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনের নিরবতা ও পুলিশের উদাসীনতা এই পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক করে তুলছে। এখনই দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে বড় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে।

Advertisement

Link copied!