মিলনের খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবি সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেলের, নিউএজ সম্পাদকের ওপর হামলার নিন্দা

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০২:৫২ পিএম

খুলনায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে সাংবাদিক এমদাদুল হক মিলন নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশ। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে খুলনা নগরীর আড়ংঘাটা থানাধীন শলুয়া বাজার এলাকায় সন্ত্রাসীরা তার ওপর অতর্কিত গুলি চালায়। এ সময় মিলনকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যুবরণ করেন। মিলন খুলনার বর্তমান সময় ডট কম’র সাংবাদিক ও শলুয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক।

এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি। তারা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত খুনিদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানিয়েছে।

সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশ’র নেতৃবৃন্দ এক বিবৃতিতে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে খুনিদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। একই সঙ্গে সংগঠনের মনিটরিং সেলের প্রধান মোহাম্মদ আলী আবিরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল নিহত সাংবাদিকের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে তার নিজ বাড়িতে যাবে বলে জানান।

সংগঠনের চেয়ারম্যান ও দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের সম্পাদক মো. খায়রুল আলম রফিকের নেতৃত্বে এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তার করা না হলে সারাদেশে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

বিবৃতিতে নিহত সাংবাদিক এমদাদুল হক মিলনের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের প্রতি কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের জোর আহ্বান জানানো হয়।

নিউএজের সম্পাদকের ওপর হামলার নিন্দা :এদিকে নিউএজ সম্পাদক ও সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নুরুল কবীরের ওপর হামলার ঘটনাকে ঘৃণ্য সন্ত্রাসী কার্যক্রম আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশ। সংগঠনটি জানায়, এই হামলার সঙ্গে জড়িতরা পতিত ফ্যাসিস্ট শক্তির ক্রীড়নক, যারা পরিকল্পিতভাবে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, সংবাদমাধ্যমের ওপর হামলা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট এবং সাংবাদিক- সম্পাদকদের নাজেহাল করার ঘটনাগুলো স্বাধীন সাংবাদিকতা, গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল দুষ্কৃতকারীকে চিহ্নিত করে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

 

সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মো. খায়রুল আলম রফিক নিন্দা জানিয়ে বলেন, সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে কণ্ঠরোধের যে অপচেষ্টা চলছে, তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। তিনি অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর আহ্বান জানান।

Advertisement

Link copied!