বান্দরবান-৩০০: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আবহে পার্বত্য জেলা

মোঃ হাসান , বান্দরবান, জেলা সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৫:৫৩ পিএম

দেশের সর্বশেষ সংসদীয় আসন পার্বত্য জেলা বান্দরবান-৩০০ আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ধীরে ধীরে নির্বাচনী আবহে প্রবেশ করছে। দুর্গম পাহাড়ি জনপদ থেকে শুরু করে শহরের বাজার, চা-দোকান ও অলিগলিতে এখন একটাই আলোচনা—কে হতে যাচ্ছেন পাহাড়ের পরবর্তী জনপ্রতিনিধি।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবান জেলায় মোট ১৮৬টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এই আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১০ হাজার ৩৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৮ হাজার ৮৫৯ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৫১ হাজার ১৭৮ জন। নারী ও পুরুষ ভোটারের সংখ্যা প্রায় কাছাকাছি হওয়ায় নির্বাচনী সমীকরণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী এ পর্যন্ত পাঁচজন প্রার্থী বান্দরবান-৩০০ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। মনোনয়নপত্র দাখিলের পর প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় সীমিত পরিসরে গণসংযোগ শুরু করেছেন।

মনোনয়ন দাখিলকারীদের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন সাচিং প্রু জেরী। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মনোনয়ন দাখিল করেছেন অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) পক্ষে শাপলা কলি প্রতীকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন এ. এস. এম. সুজাই উদ্দিন।

এছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে হাতপাখা প্রতীকে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। জাতীয় পার্টির (জাপা) মনোনীত প্রার্থী হিসেবে লাঙ্গল প্রতীকে মনোনয়ন দাখিল করেছেন আবু জাফর মোহাম্মদ ওয়ালিউল্লাহ।

বহু জাতিগোষ্ঠীর বসবাস, দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা ও পাহাড়ি বাস্তবতার কারণে বান্দরবান-৩০০ আসন বরাবরই একটি চ্যালেঞ্জিং ও গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন হিসেবে বিবেচিত। ভোটারদের প্রত্যাশা, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি পাহাড়ে শান্তি, উন্নয়ন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।

এখন নজর রয়েছে প্রার্থী যাচাই-বাছাই, মনোনয়ন প্রত্যাহার ও প্রতীক বরাদ্দের পর নির্বাচনী মাঠের চূড়ান্ত চিত্রের দিকে।

Link copied!