গাজীপুর–৫ আসনে নির্বাচনী রাজনীতি যখন তুঙ্গে, তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মাঠপর্যায়ের আলোচনায় একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে,১২ দলীয় ঐক্যজোটে মনোনয়ন কাকে দিলে বিজয়ের সম্ভাবনা সর্বাধিক? প্রশ্ন উঠেছে গাজীপুর–৫ এ মনোনয়ন প্রশ্নে বাস্তবতা বনাম আবেগ নিয়ে কার্যক্রম চলমান। যা জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হিসাবে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান নতুন মুখ নন তবে তিনি অতীতে হাতপাখা প্রতীক নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়েছেন, জনগণের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। দলীয় সাংগঠনিক কাঠামো নিয়েও নেতাকর্মীরা আত্মবিশ্বাসী। তবে বাস্তব ভোটরাজনীতির কঠিন হিসাব বলছে ভিন্ন কথা। তাকে অনেকেই চিনেনা বলে মন্তব্য করেছেন।এমনকি নিজের মত করে ভোট করলে জামানত হারানোর শংকাই নাকী বেশি। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী খায়রুল হাসান বাস্তবে সম্পূর্ণ গণমূখী।
হাতপাখার আতাউর রহমানের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও স্থানীয় পর্যায়ের মতামতে বারবার উঠে আসছে,কালীগঞ্জে পরিচিতি ও সক্রিয় উপস্থিতির ঘাটতি।
ফেসবুকে মন্তব্যকারীদের ভাষ্য, "সারা বছর মাঠে-ময়দানে কাজের দৃশ্যমানতা নেই”, “বাড়িয়া ইউনিয়নসহ একাধিক এলাকায় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ দুর্বল”, এমনকি কেউ কেউ বলছেন, “নিজ ইউনিয়ন থেকেই কত ভোট পাবেন—সেটাই বড় প্রশ্ন।” এসব মন্তব্যে আরও যোগ হয়েছে আশঙ্কা—জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা।
অন্যদিকে, জামায়াত ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী খায়রুল হাসান—এই আসনে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। মাঠের কর্মী থেকে সাধারণ ভোটার,সবার আলোচনায় তার নাম। সামাজিক মাধ্যমে একাধিক মন্তব্যে স্পষ্ট উচ্চারণ—“যাই বলা হোক না কেন, খায়রুল হাসান মানুষের মনে যে জায়গা করে নিয়েছেন, অন্য কেউ তা পারবে না।” অতীতে জোট রাজনীতির কারণে যে ভোটভাগ ও কৌশলগত ক্ষতি হয়েছিল—সেটিই আজকের সিদ্ধান্তকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি আসন জিততে হলে আবেগ নয়, দরকার প্রমাণিত জনসমর্থন। কালীগঞ্জের একাধিক কেন্দ্রে প্রার্থী ‘পাস’ করতে না পারার আশঙ্কা নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। বরং একক প্রার্থী হিসেবে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মুখকে এগিয়ে রাখা,এটাই জোটের স্বার্থে বুদ্ধিমানের সিদ্ধান্ত। তাছাড়া শক্তিশালী বিএনপির একক প্রার্থী একেএম ফজলুল হক মিলন ধানের শীষে লড়বেন যা একপ্রকার চূড়ান্ত। সাধারণ ভোটারের মন্তব্য জামায়াত নেতা দাঁড়িপাল্লার খায়রুল হাসান ছিলেন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী। আর হাতপাখার আতাউরকে ঐক্যজোটের পক্ষ থেকে এই আসনে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিলে "জেনে শুনে বিষ পান করা"অর্থাৎ নিশ্চিত পরাজয়ের বার্তা নিয়েই লড়তে হবে।ফলে গাজীপুর - ৫ এ নির্বাচনী আমেজ উদ্দীপনা অনেকটা ম্লান হয়ে যাবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির মাঠ পর্যায়ের এক কর্মী প্রতিদিনের কাগজকে জানান ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখার প্রার্থী আতাউরকে গাজীপুর -৫ আসনে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিলে আমাদের ধানের শীষের বিজয়ে তেমন প্রচার লাগবেনা।নাক ডেকে ঘুমাতে পারবো।
এক জামাত কর্মী নাম প্রকাশ না করার প্রতিশ্রুতিতে এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, এই আসনে গত দেড় বছর যাবত মাঠ গোছানো হয়েছে, খায়রুল ভাইকে চূড়ান্ত মনোনয়ন না দিলে অগ্রীম পরাজয়ের শুভেচ্ছা গ্রহণ করা নিশ্চিত।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মতামত উঠে এসেছে ১১/১২ দলীয় ঐক্যের বাস্তবতা। যেখানে জোটের শক্তিকে কেন্দ্রীভূত না করলে ভোট ছড়িয়ে পড়ে, সেখানে স্ব-ইচ্ছায় আসন ছাড়ার নৈতিকতা নিয়েও আলোচনা চলছে। অনেকেই মনে করছেন, গাজীপুর–৫ আসনে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে কৌশলগত ছাড় দিলে খায়রুল হাসানের বিজয় নিশ্চিত করার পথ প্রশস্ত হবে,যা জোটের সামগ্রিক শক্তিকেই বাড়াবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, মাঠ ও অনলাইনে খায়রুল হাসানের পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা তুলনামূলকভাবে বেশি।কালীগঞ্জে আতাউর রহমানের নিয়মিত উপস্থিতি ও ভোটব্যাংক নিয়ে প্রশ্ন। জোট রাজনীতিতে ভোট একত্রিত না হলে ফলাফল ঝুঁকিপূর্ণ।অতীত অভিজ্ঞতায় দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীর জনপ্রিয়তা প্রমাণিত।
তাই রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বিশ্লেষকেরা বলছেন, গাজীপুর–৫ আসনে চূড়ান্ত মনোনয়ন নির্ধারণে তাই আবেগ নয়, তথ্য–উপাত্ত ও মাঠের বাস্তবতাই শেষ কথা। জোটের বিজয় নিশ্চিত করতে খায়রুল হাসানকেই গাজীপুর–৫ থেকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া উচিত,এটাই এখন সাধারণ ভোটার ও বিশ্লেষকদের বড় অংশের প্রত্যাশা।
আপনার মতামত লিখুন :