বিশ্বে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে ঢাকা

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬, ১১:৪৪ এএম

কয়েক দিন বায়ুমানের কিছুটা উন্নতি পরিলক্ষিত হলেও মেগাসিটি ঢাকার বাতাসে দূষণের মাত্রা আবারও আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে বাংলাদেশের রাজধানী।

সকালে ঢাকার বায়ুমান সূচক বা একিউআই স্কোর রেকর্ড করা হয়েছে ২৭১, যা পরিবেশ বিজ্ঞানের মানদণ্ডে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত। শীতকালীন শুষ্ক আবহাওয়ায় ধূলিকণা ও ধোঁয়ার প্রভাবে বাতাসের এই বিষাক্ত অবস্থা নগরবাসীর জন্য চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।

আইকিউএয়ারের রিয়েল-টাইম র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী, দূষণের এই দৌড়ে ২১৮ স্কোর নিয়ে বৈশ্বিক তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের করাচি শহর। এছাড়া ২০৩ স্কোর নিয়ে তৃতীয় স্থানে ভারতের রাজধানী দিল্লি, ১৯৮ স্কোর নিয়ে চতুর্থ স্থানে ভিয়েতনামের হ্যানয় এবং ১৯৩ স্কোর নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে কিরগিজস্তানের রাজধানী বিসকেক।

ঢাকার স্কোর ৩০০-এর কাছাকাছি পৌঁছানোয় এটি বর্তমান সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর জনপদে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ভোরে যারা কাজে বের হন বা প্রাতঃভ্রমণ করেন, তাদের ফুসফুসে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষাক্ত কণা প্রবেশের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

বায়ুমান সূচকের নিয়ম অনুযায়ী, একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ হলে তাকে ‘ভালো’ বাতাস বলা হয়। তবে স্কোর ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকলে তাকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে শিশু, প্রবীণ এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

চিকিৎসকরা এই অবস্থায় অসুস্থ রোগীদের ঘরের ভেতরে থাকার এবং সুস্থ ব্যক্তিদের বাইরের যাবতীয় শারীরিক কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। পরিবেশবিদদের মতে, অপরিকল্পিত নির্মাণকাজ, যানবাহনের কালো ধোঁয়া এবং শুষ্ক মৌসুমে ধুলোর প্রকোপ বেড়ে যাওয়াই ঢাকার বাতাসকে বারবার বিপজ্জনক করে তুলছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, একিউআই স্কোর যদি ৩০১ ছাড়িয়ে যায়, তবে তাকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ধরা হয়, যা যেকোনো সুস্থ মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। ঢাকার বর্তমান পরিস্থিতি প্রায় সেই স্তরের কাছাকাছি পৌঁছানোয় মাস্ক ব্যবহার এবং যথাসম্ভব দূষিত এলাকা এড়িয়ে চলা জরুরি হয়ে পড়েছে। 

সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বায়ুদূষণ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সামনের দিনগুলোতে জনস্বাস্থ্যের সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Link copied!