ঢাকা-৩ আসনে বিজয়ী গয়েশ্বর চন্দ্র রায়

নাজিউল্লাহ ভূইয়া , কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম

ঢাকা-৩ (দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ) নির্বাচনী আসনে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে ১৬ হাজার ৫৫৩ ভোট বেশি পেয়ে জয় নিশ্চিত করেন।

বৃহস্পতিবার রাত পৌনে তিনটার দিকে ১২৬টি কেন্দ্রের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা শেষে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উমর ফারুক ফলাফল নিশ্চিত করেন। গেজেট প্রকাশের পর আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করবে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন।

ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৭৮৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অধ্যক্ষ শাহীনুর ইসলাম, যিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন, পেয়েছেন ৮২ হাজার ২৩২ ভোট। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রার্থী মো. সুলতান আহম্মদ খাঁন পেয়েছেন ৬ হাজার ২৪৫ ভোট এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. ফারুক পেয়েছেন ১ হাজার ৭০ ভোট। অন্যান্য প্রার্থীরা তুলনামূলক কম ভোট পেয়েছেন।

কেরানীগঞ্জের পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৬১৮ জন। উক্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী—আসনটিতে ১,৮২,৮৪৩ জন পুরুষ ভোটার, ১,৭৬,৭৭১ জন নারী ভোটার এবং ৪ জন হিজড়া ভোটার ছিলেন। মোট ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার ২৭৮ জন। যার মধ্যে বৈধ ভোটার ছিল ১ লাখ ৮৯ হাজার ৬৩৬। বাতিল হয়েছে ৩ হাজার ৬৪২ ভোট। ভোটের হার (৫৩.৭৫%) উল্লেখযোগ্য ছিল, যা প্রতিদ্বন্দ্বিতার তীব্রতাকে প্রতিফলিত করে।

একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটে মোট ভোট পড়ে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৭১২টি। এর মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোট ১ লাখ ৩৭ হাজার ৪৭ এবং ‘না’ ভোট ৪৪ হাজার ৬৩৭টি।

ভোটগ্রহণের শুরু থেকেই বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা লক্ষ্য করা যায়। কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলে কখনও ব্যবধান কমেছে, কখনও বেড়েছে। শেষ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে থেকে জয় নিশ্চিত করেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

ফলাফল ঘোষণার পর পরই দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি সমর্থকদের মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিল করতে দেখা যায়। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ লড়াইয়ে বড় ব্যবধানে জয় বিএনপির সাংগঠনিক সক্ষমতারই প্রতিফলন। ঢাকা-৩ আসনের ফলাফল স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন তারা।

চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের পর আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। এরপরই সংসদীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

Link copied!