দেশের ছয় সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সরকার ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর, খুলনা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও সিলেট সিটি করপোরেশনে প্রশাসক হিসেবে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের প্রভাবশালী নেতাদের দায়িত্ব দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। নগরবাসীর একটি বড় অংশ এ নিয়োগকে রাজনৈতিক বিবেচনায় দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করছেন।
নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন: ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে বিএনপির প্রবীণ নেতা অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটিতে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি শফিকুল ইসলাম খান, খুলনা সিটিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, গাজীপুর সিটিতে মহানগর বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন সরকার, নারায়ণগঞ্জ সিটিতে আইনজীবী ও মহানগর বিএনপির নেতা অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, ও সিলেট সিটিতে জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাইয়ুম চৌধুরী।
স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে আগের প্রশাসকদের সরিয়ে নতুনদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে, এটি কি প্রশাসনিক প্রয়োজন, নাকি দলীয় প্রভাব বিস্তারের কৌশল?
আমরা নিরপেক্ষ প্রশাসন চাই উল্লেখ করে রাজধানীর এক ব্যবসায়ী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, “সিটি করপোরেশন জনগণের সেবা প্রতিষ্ঠান। এখানে দলীয় পরিচয় নয়, দক্ষতা ও নিরপেক্ষতাই মুখ্য হওয়া উচিত।”
গাজীপুরের এক শিক্ষক বলেন, “যদি প্রশাসকরা দলীয় পরিচয়ে কাজ করেন, তাহলে সেবা প্রাপ্তিতে বৈষম্য তৈরি হতে পারে—এই আশঙ্কা আমাদের রয়েছে।”
নারায়ণগঞ্জের এক তরুণ উদ্যোক্তা মন্তব্য করেন, “আমরা চাই উন্নয়ন ও স্বচ্ছতা। রাজনৈতিক প্রভাব যেন নাগরিক সেবাকে প্রভাবিত না করে।”
সিটি কর্মকর্তাদের একজন (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) শঙ্কা প্রকাশ করে জানান, নতুন প্রশাসকদের অনেকেই দীর্ঘদিন সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক চাপের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। একজন কর্মকর্তা বলেন, “আমরা চাই পেশাদার পরিবেশ বজায় থাকুক। প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা যেন ব্যাহত না হয়।”
বিএনপির অবস্থান সম্পর্কে কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা দাবি করেছেন, দলীয় নেতারা দীর্ঘদিন জনসম্পৃক্ত রাজনীতি করেছেন বলেই তারা নগর সমস্যার বাস্তব চিত্র জানেন। তাদের মতে, “এটি রাজনৈতিক নিয়োগ নয়; অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত নেতৃত্বকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে বলছেন, স্থানীয় সরকারে দলীয় সম্পৃক্ততা নতুন নয়, তবে সরাসরি রাজনৈতিক নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিলে নিরপেক্ষতার প্রশ্ন উঠতে পারে। তাদের মতে, সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের রোডম্যাপ স্পষ্ট না হলে এ বিতর্ক আরও বাড়তে পারে।
অন্যদিকে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা একটাই, নগরসেবা যেন হয় স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও দলমত নির্বিশেষে সমান। প্রশাসকরা যদি রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে পারেন, তাহলে বিতর্ক থেমে যাবে, এমনটাই মনে করছেন সচেতন মহল।
ছয় সিটিতে এই নিয়োগ শেষ পর্যন্ত নগর ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনে, নাকি রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ আরও জোরালো হয়, সেদিকেই এখন নজর নগরবাসীর।
আপনার মতামত লিখুন :