ময়মনসিংহে ২০ টাকার চাঁদা এখন ১০০ টাকা!

রেজাউল করিম রেজা , বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বন্ধ থাকলেও ময়মনসিংহে আবারও পুরনো কায়দায় চাঁদা তোলার অভিযোগ উঠেছে। পরিবহন শ্রমিকদের দাবি, আগে যেখানে অটোরিকশা প্রতি ২০ টাকা নেওয়া হতো, এখন সেখানে ১০০ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে। এর প্রতিবাদে গত রোববার সকালে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের ত্রিশাল এলাকায় অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী কর্মসূচির কারণে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশের আশ্বাসে শ্রমিকরা সড়ক ছাড়েন।

একই দাবিতে ময়মনসিংহ শহরতলীর রহমতপুর বাইপাস মোড়েও প্রায় দুই ঘণ্টা বিক্ষোভ করেন অটোরিকশা চালকরা। এই বাইপাস দিয়ে সাধারণত ময়মনসিংহ–মুক্তাগাছা রুটে অটোরিকশা চলাচল করে। এ ছাড়া নগরীর বিভিন্ন স্থানেও নানা নামে চাঁদা তোলার অভিযোগ করেছেন শ্রমিকরা।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর হতে চাই। তবে চালকদের সহযোগিতা প্রয়োজন। তারা তথ্য দিলে চাঁদাবাজদের মূলোৎপাটন করা হবে।”

ময়মনসিংহ–ঢাকা মহাসড়কে চলাচলকারী ত্রিশালের চালকদের অভিযোগ, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রতিটি অটোরিকশা থেকে ২০ টাকা করে চাঁদা নেওয়া হতো, যা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বন্ধ ছিল। তবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার ক্ষমতায় আসার পর অতিরিক্ত হারে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

অটোরিকশা চালক আমিনুর রহমান বলেন, “ত্রিশাল উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কে অন্তত ২০টির বেশি স্থানে স্লিপের মাধ্যমে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এতে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা উঠছে। এটা আমাদের ঘামের টাকা, সংসারের রিজিক।”

আরেক চালক খায়রুল কবির বলেন, “চাঁদা দিতে না পারলে নানা হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। এমন চলতে থাকলে গাড়ি চালানো বন্ধ রাখা ছাড়া উপায় থাকবে না।”

চালকদের ভাষ্য অনুযায়ী, দরিরামপুর বাসস্ট্যান্ড, পোস্ট অফিস মোড়, ব্র্যাক অফিস মোড়, গোহাটা মোড়, বৈলর মোড়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় বাইপাসসহ বিভিন্ন স্থানে ১০ থেকে ৫০ টাকা হারে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে।

ত্রিশাল থানার ওসি ফিরোজ হোসেন বলেন, “সড়কে কোনো চাঁদাবাজি বরদাস্ত করা হবে না। যে-ই জড়িত থাকুক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নগরীতেও চাঁদার অভিযোগ

ময়মনসিংহ নগরীর পাটগুদাম ব্রিজ মোড় স্ট্যান্ডের চালকরাও চাঁদা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। চালক মোজ্জামেল হোসেন বলেন, “সিটি করপোরেশনের নামে টোকেনের মাধ্যমে ২০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। আবার ‘জিপি’ ফান্ডের নামে ৫০ টাকা দাবি করা হচ্ছে, যার কোনো স্লিপ দেওয়া হয় না।”

চালক আব্দুল হালিম অভিযোগ করেন, “চাঁদা দিতে দেরি হওয়ায় আমার মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয় এবং হুমকি দেওয়া হয়।”

যাত্রী আব্দুল জব্বার বলেন, “চাঁদাবাজি চলতে থাকলে শেষ পর্যন্ত এর চাপ পড়বে যাত্রীদের ওপরই। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দরকার।”

চাঁদা উত্তোলনের সঙ্গে যুক্ত মনির হোসেন দাবি করেন, স্ট্যান্ডটি টেন্ডারের মাধ্যমে ইজারা নেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য, “সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত হারে ২০ টাকা এবং শ্রমিক কল্যাণের জন্য ৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।”

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন–এর সচিব সুমনা আল মজিদ বলেন, “এক বছরের জন্য পাটগুদাম অটোরিকশা স্ট্যান্ড ইজারা দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

Link copied!