ময়মনসিংহে একটি ছাত্রমেসে ভোররাতে ঘুমিয়েছিলেন এক শিক্ষার্থী। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলেও ঘুম ভাঙেনি তার। মেসের অন্য সদস্যরা দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করলেও মেলেনি কোনো সাড়া। আতঙ্কে খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। হাজির হয় ফায়ার সার্ভিসও। পরে দরজা ভেঙে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ভেতরে প্রবেশ করে দেখেন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ওই ছাত্র। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
ওই শিক্ষার্থীর নাম সোহান (১৯)। তিনি নগরীর বেসরকারি একটি কলেজের উচ্চমাধ্যমিকে পড়ছেন। তার গ্রামের বাড়ি জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি উপজেলায়। সোহান নগরীর সানকিপাড়া হেলথ অফিসার গলির ছাত্রদের মেসে থেকে লেখাপড়া করেন।
সোমবার (২ মার্চ) বিকেল চারটার দিকে নগরীর সানকিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের দরজা ভেঙে শিক্ষার্থী উদ্ধারের ভিডিও মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে দেখা যায়, এক ছাত্র মেসের দরজায় ধাক্কাকে ধাক্কাতে সহপাঠীকে ডাকতে থাকে। কিন্তু তাঁর কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি টের পেয়ে বাসার দরজার সামনে ও নিচে ভিড় জমান। স্থানীয় বাসিন্দারা অনেক ডাকাডাকি করেন। কিন্তু কিছুতেই তাঁর সাড়া মিলছিল না। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশও ঘটনাস্থলে গিয়ে ডাকাডাকি করে। তবে সাড়া না পাওয়ায় ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ওই শিক্ষার্থীকে ডেকে তোলেন।
ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন অফিসার জুলহাস উদ্দিন বলেন, ওই শিক্ষার্থী ভোররাতে ঘুমিয়ে পড়েন। তাঁর সহপাঠীরা না ঘুমিয়ে বাইরে চলে যান। এমন সময় ওই শিক্ষার্থী ভেতর থেকে দরজা লাগিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পরে সকালে সহপাঠীরা এসে অনেক ডাকাডাকি করলেও তাঁর সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। বিষয়টি আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে মানুষজন ভিড় জমাতে থাকেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়। ফায়ার সার্ভিস এসে দরজা ভেঙে ১২ ঘণ্টা পর সোহানকে উদ্ধার করে।
কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশনস) মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, ওই ছাত্র সারা রাত না ঘুমিয়ে ভোররাতে ঘুমান। যে কারণে অনেক ডাকাডাকি করলেও তিনি টের পাননি। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় দরজা ভেঙে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। এখন ওই ছাত্র সুস্থ আছেন।
আপনার মতামত লিখুন :