ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে নাজমুস সাকিব যোগদানের পর নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বিশেষ করে ছিনতাই, চুরি ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তার নেতৃত্বে পুলিশ সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ময়মনসিংহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ থানা কোতোয়ালিতে দীর্ঘদিন ধরে অফিসার সংকট রয়েছে। অনেক পুলিশ সদস্য চাকরির শেষ পর্যায়ে থাকলেও সীমিত জনবল নিয়ে নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ওসি নাজমুস সাকিব কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
নগরীর অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত রেলওয়ে স্টাফ কোয়ার্টার এলাকাকে বিশেষ নজরদারিতে আনা হয়েছে।
এ এলাকায় আগে ছিনতাই ও মাদক ব্যবসার ঘটনা বেশি ঘটলেও সাম্প্রতিক সময়ে অভিযান ও টহল জোরদার করায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।
ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, গত তিন মাসে ময়মনসিংহ নগরীতে চারটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে তিনটি হত্যাকাণ্ডের মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সদর আসনের জাতীয় নির্বাচনের সময়ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে স্থানীয়দের অভিমত। নগরীর কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা আসলাম বলেন, “ওসি সাহেব নতুন হলেও যেভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তার জন্য ধন্যবাদ প্রাপ্য। আগের তুলনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।”
জেলা স্কুলের শিক্ষক মোজাম্মেল হক বলেন, “আগে ছিনতাইকারীদের ভয়ে রাতে বের হতে ভয় লাগত। এখন অনেকটাই স্বস্তিতে চলাফেরা করা যায়। যতটুকু শুনেছি, তিনি অত্যন্ত মেধাবী ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা।”
থানায় দালাল ও টাউট প্রবেশে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। সাধারণ মানুষকে দ্রুত সেবা দেওয়ার বিষয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে।
ওসি নাজমুস সাকিব বলেন, “সদরের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ময়মনসিংহবাসী নিশ্চিন্তে ঘুমাবেন, জেগে থাকব আমরা।” তিনি আরও বলেন, ডিআইজি, এসপি স্যার ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সার্বিক সহায়তা এবং নির্দেশনায় এবং সচেতন নাগরিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সহযোগিতার কারণেই অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে সীমিত জনবল ও নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও ময়মনসিংহ নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে পুলিশের এ প্রচেষ্টা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সচেতনমহল।
আপনার মতামত লিখুন :