ময়মনসিংহের বাসাবাড়ি মার্কেটে ক্রেতা-বিক্রেতার মারামারি: সমঝোতা হলেও প্রশ্ন ক্রেতাদের নিরাপত্তা নিয়ে

ময়মনসিংহ নগরীর বাসাবাড়ি হকার্স মার্কেটের ফরিদের মালিকানাধীন "খাদিজা ফেব্রিকস"-এ ক্রেতা-বিক্রেতার বাকবিতণ্ডায় মারামারির ঘটনায় সমঝোতা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে শুক্রবার (৬ মার্চ) সন্ধ্যায় ঘটনার পর মার্কেটে দোকানের লোকজন গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে কথা না বলে চলে যায়। পরবর্তীতে বাসাবাড়ি হকার্স মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল কাদের দুই লাখ টাকা দোকান থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলে গণমাধ্যম কর্মীদের এড়িয়ে যান। ঘটনার সময়ের সিসি ফুটেজ দেখতে চাইলে তিনি বলেন, 'খাদিজা ফেব্রিকস' সিসি ফুটেজের আওতায় নয়।

দোকানদার ফরিদ ও ব্যবসায়ী সমিতির লুকোচুরির সূত্র ধরে অনুসন্ধানে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। সূত্র বলছে, খাদিজা ফেব্রিকসের মালিক ও কর্মচারীদের কর্তৃক অসদাচরণ, নারী লাঞ্ছিতসহ মারধরের ঘটনা আড়াল করতেই সিসি টিভির ফুটেজ গোপন করে ক্রেতার উপর দুই লক্ষাধিক টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে বাসাবাড়ি হকার্স মার্কেটে ক্রেতারা কতটুকু নিরাপদ? যেখানে সমিতির নেতারাই অপরাধীদের রক্ষক?

একাধিক ক্রেতা অভিযোগ করে বলেন, বাসাবাড়ি মার্কেটে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে বেশি দামে কাপড় বিক্রি করে, অনেকেই আকাশচুম্বী দাম চায়, দাম কম বললেই বাঁধে বিপত্তি। ক্রেতাদের সাথে অসদাচরণ নিত্যদিনের ঘটনা।

ফুলবাড়িয়া উপজেলার আছিম এলাকা থেকে আসা বোরহান উদ্দিন ও রুমেলা দম্পতি বলেন, কাপড় দেখানো নিয়ে বাকবিতণ্ডার সময় আমি 'খাদিজা ফেব্রিকস' নামক দোকানে আমিও কাপড় দেখতে ছিলাম, এখানে একজন নারী ক্রেতার সাথে যা হয়েছে তা দেখে খুবই বিস্মিত হয়েছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সমঝোতা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন একজন জানান, আসলে দুই লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। এমনভাবে যদি কোনো ঘটনার প্রেক্ষিতে ক্রেতাদের উপর মিথ্যা অভিযোগ চাপিয়ে দেওয়া হয় তাহলে ক্রেতাদের নিরাপত্তা কি? এক্ষেত্রে দোকানদারের বিচার হওয়ার উচিত।

অবশেষে সমঝোতার বিষয়ে বাসাবাড়ি হকার্স মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদেরের কাছে জানতে চাইলে তখনও তিনি কোনো সদুত্তর দেননি। তিনি বলেন, যেভাবেই হোক আমরা মীমাংসা করেছি, আপনারা সাংবাদিকরা লিখে যা করার করেন।

Link copied!