বাংটু ঘাটে সেতু নির্মাণের দাবিতে বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ

জাকির হোসেন , ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ২৫ মার্চ, ২০২৬, ০৫:১৩ পিএম

কুড়িগ্রাম সদর ও ফুলবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী ধরলা নদীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হিসেবে পরিচিত 'বাংটু ঘাট'। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এই এলাকায় একটি স্থায়ী ব্রিজের দাবি জানিয়ে আসলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এই বঞ্চনার প্রতিবাদে এবং দ্রুত ব্রিজ নির্মাণের দাবিতে আজ ২৫ মার্চ, ২০২৬ (বুধবার) সকালে হলোখানা ইউনিয়নের বাংটু ঘাটের সামনে সর্বস্তরের জনসাধারণের অংশগ্রহণে এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মানববন্ধনে উপস্থিত বক্তারা এই অঞ্চলের চরম জনদুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে বলেন, একটি ব্রিজের অভাবে দুই উপজেলার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ প্রতিনিয়ত অবর্ণনীয় কষ্টের শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রে এই ঘাটটি এলাকাবাসীর জন্য এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। কোনো মুমূর্ষু রোগী বা গর্ভবতী মাকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে নিতে হলে সরাসরি পারাপারের ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘ ৩২ কিলোমিটার পথ ঘুরে বড়বাড়ী হয়ে যেতে হয়। এতে সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানো সম্ভব হয় না বলে অনেক সময় পথেই রোগীর মৃত্যু ঘটে।

কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক স্থবিরতার চিত্র তুলে ধরে কৃষকরা জানান, যাতায়াত ব্যবস্থা অনুন্নত হওয়ায় তারা উৎপাদিত ফসল সঠিক সময়ে কুড়িগ্রামের বড় বাজারগুলোতে নিতে পারেন না। নৌকা পারাপারে একদিকে যেমন অতিরিক্ত খরচ হয়, অন্যদিকে সময়ের অপচয় ঘটে, ফলে হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে ফসল ফলিয়েও তারা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। যাতায়াত সংকটের কারণে এই এলাকায় নতুন কোনো শিল্পায়ন বা ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটছে না, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক অনগ্রসরতাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এছাড়া বর্ষাকালে এই অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছোট ছোট নৌকায় করে ছাত্রছাত্রীদের নদী পার হতে হয়, যার ফলে অনেক সময় অভিভাবকরা সন্তানদের স্কুল-কলেজে পাঠাতে সাহস পান না।

মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে হলোখানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রেজা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বছরের পর বছর পার হলেও বাংটু ঘাটের উন্নয়নে কেউ কোনো পদক্ষেপ নেয় না। এবার দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এলাকাবাসী রাজপথ ছাড়বে না। বিশিষ্ট ব্যাংকার ইউনুস আলী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, এই ব্রিজটি নির্মিত হলে কেবল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে না, বরং পুরো অঞ্চলের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের চিত্র আমূল বদলে যাবে। সমাজসেবক সাইফুর রহমান এবং মুসল্লিপাড়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার নুরুজ্জামানও দুই উপজেলার সামাজিক ও বাণিজ্যিক মেলবন্ধন ত্বরান্বিত করতে অতিদ্রুত সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

পরিশেষে, বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বর্তমান সরকারের চলমান উন্নয়ন অগ্রযাত্রার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, কুড়িগ্রাম ও ফুলবাড়ীর মানুষের এই দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করা এখন সময়ের দাবি। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অতিদ্রুত বাংটু ঘাটে সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা করে হাজার হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের দুঃখ লাঘব করবেন।

Link copied!