ময়মনসিংহের তারাকান্দায় ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে চা-দোকানি ফখরউদ্দিন হত্যাকাণ্ডের জেরে প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে ভয়াবহ তাণ্ডব চালানো হয়েছে। অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের এই ঘটনায় অন্তত অর্ধকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার কাকনী ইউনিয়নের বগিরপাড়া গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে অন্তত ৪টি বসতঘর। এছাড়া আরও ৩টি ঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের চিহ্ন ও ভাঙাচোরা আসবাবপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকায় পুরো এলাকায় চরম উৎকণ্ঠা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, হামলাকারীরা সংঘবদ্ধ হয়ে বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং মূল্যবান মালামাল লুট করে নেয়। তাদের দাবি, ৭টি বাড়ি থেকে ১১টি গরু, প্রায় ৮ ভরি স্বর্ণালঙ্কারসহ মোট প্রায় ৫০ লাখ টাকার সম্পদ লুট ও ধ্বংস করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, স্থানীয় ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সুরুজ আলী, বাচ্চু হক মিয়া ও আলমগীরের নেতৃত্বে এই তাণ্ডব চালানো হয়েছে। তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিহত ফখরউদ্দিনের স্ত্রী বলেন, “আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই। তবে এই অগ্নিসংযোগ বা লুটপাটের সঙ্গে আমাদের পরিবারের কেউ জড়িত নয়। একটি কুচক্রী মহল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।”
তারাকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহম্মেদ বলেন, “অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। সহিংসতার সাথে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, গত ২৩ মার্চ বগিরপাড়া গ্রামে ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে চা-দোকানি ফখরউদ্দিন প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হন। ওই হত্যাকাণ্ডের জেরে পরবর্তীতে এই সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :