কেরানীগঞ্জে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অবৈধ মজুত এবং অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের পৃথক অভিযানে একটি ফিলিং স্টেশন ও এক খোলা বাজারের ব্যবসায়ীকে মোট ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। প্রশাসনের এ অভিযানে স্থানীয়ভাবে স্বস্তি ফিরে এলেও তেল সরবরাহ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
রবিবার (গতকাল) রাত পর্যন্ত চলা এ অভিযানে কদমতলী গোলচত্বর ও রামেরকান্দা বাজার এলাকার একাধিক স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন কেরানীগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল মাওয়া।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রথমে রামেরকান্দা বাজার এলাকায় খোলা বাজারে জ্বালানি তেল বিক্রির অভিযোগে অভিযান চালানো হয়। সেখানে এক ব্যবসায়ীকে প্রতি লিটার অকটেন ২৩০ টাকা দরে বিক্রি করতে গিয়ে হাতেনাতে আটক করা হয়। এ সময় তিনি এক মোটরসাইকেল আরোহীর কাছে ১২ লিটার অকটেন বিক্রি করছিলেন। ঘটনাস্থলেই পেট্রোলিয়াম আইন অনুযায়ী তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং ভবিষ্যতে এমন কার্যক্রমে জড়িত না থাকার জন্য সতর্ক করা হয়।
পরে আটক ব্যবসায়ীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কদমতলী গোলচত্বর এলাকায় অবস্থিত “তানাকা ফিলিং স্টেশন”-এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে দেখা যায়, নিয়ম ভেঙে যানবাহন ছাড়া গ্যালনে করে প্রতি লিটার অকটেন ১৩৫ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে।
যা সরকারি নির্ধারিত নিয়মের পরিপন্থী। এ অনিয়মের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল মাওয়া বলেন, “জ্বালানি তেল নিয়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। যারা বাজারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উমর ফারুক বলেন,“জ্বালানি সংকটকে পুঁজি করে কেউ যাতে অবৈধ মুনাফা করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। খোলা বাজারে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি, অবৈধ মজুত ও সরবরাহে অনিয়মের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি কার্যকর আছে।”তিনি আরও জানান, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনে আরও বড় পরিসরে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য স্বাভাবিক ও স্বচ্ছ জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে উপজেলা প্রশাসন। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তানাকা ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা স্থানীয় মোটর সাইকেলচালক ফয়সাল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ম্প্রতিক সময়ে এলাকায় জ্বালানি তেলের সংকটের কথা বলা হলেও বাস্তবে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। পাম্পগুলোতে তেল নেই—এমন অজুহাতে সাধারণ মানুষকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, অথচ একই সময়ে আশপাশের দোকানগুলোতে গোপনে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি হচ্ছে।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “যদি সত্যিই পাম্পে তেল না থাকে, তাহলে এসব দোকান তেল পাচ্ছে কোথা থেকে? সাধারণ মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পায় না, কিন্তু অসাধু চক্র ঠিকই তেল সংগ্রহ করছে এবং তা চড়া দামে বিক্রি করছে—এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
ক্ষোভ ঝেড়ে তিনি আরও বলেন, “এটা শুধু অনিয়ম না, সরাসরি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা। প্রশাসনের চোখের সামনে এমন কারসাজি চলতে পারে না। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
তিনি দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে বাজারে স্বাভাবিক জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জোরালো হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
আপনার মতামত লিখুন :