ভুয়া ওয়ারেন্টে দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের সাংবাদিক গ্রেপ্তার, ১৮ ঘণ্টা পর আদালতে মুক্তি

বিশেষ প্রতিনিধি , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ০৮ এপ্রিল, ২০২৬, ০১:০২ পিএম

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় ‘ভুয়া ওয়ারেন্টে’ গ্রেপ্তারের শিকার হয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক সোহরাব হোসেন। সোমবার বিকেলে তাকে আটক করে পুলিশ এবং প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার সকালে আদালতের মাধ্যমে মুক্তি পান তিনি। ঘটনাটি ভুলবশত হয়েছে বলে আদালত ও পুলিশ স্বীকার করলেও বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা চলছে।

জানা যায়, সোমবার বিকেলে দেবিদ্বার থানার এসআই ভবতোষ কান্তি দে’র নেতৃত্বে একদল পুলিশ কুমিল্লার সিআর মামলা নম্বর-৫৭৩/২০২৫-এর একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে সোহরাব হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় তিনি ওয়ারেন্টের বিষয়ে জানতে চাইলেও পুলিশ তার বক্তব্য আমলে নেয়নি।

পরদিন মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাকে কুমিল্লার আদালতে পাঠানো হলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সায়মা শরীফ নিশাত তার মুক্তির নির্দেশ দেন। আদালত জানায়, যে ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল তা সঠিক ছিল না।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক সোহরাব হোসেন, যিনি দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের দেবিদ্বার উপজেলা প্রতিনিধি, অভিযোগ করে বলেন উপজেলার উটখারা মাজারের জমি দখলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে তাকে মিথ্যা মামলায় হয়রানি করা হচ্ছে। জামিনে থাকা সত্ত্বেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে এবং বিষয়টি জানালেও তারা কোনো গুরুত্ব দেয়নি।

তিনি আরও বলেন, “ম্যাজিস্ট্রেট কাগজপত্র যাচাই করে দেখেন, আমার নামে কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নেই। এরপর আমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ভুয়া ওয়ারেন্টের কারণে আমার সম্মানহানি হয়েছে। আমি এ ঘটনায় বিচার চেয়ে আদালতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করব।”

এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার এসআই ভবতোষ কান্তি দে বলেন, আদালতের পাঠানো ওয়ারেন্টের ভিত্তিতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাৎক্ষণিকভাবে ওয়ারেন্ট যাচাইয়ের সুযোগ না থাকায় এমনটি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৪ নম্বর আমলি আদালতের পেশকার মো. জসিম উদ্দিন জানান, ভুলবশত ওই গ্রেপ্তারি পরোয়ানাটি থানায় চলে গিয়েছিল। পরে আদালতে বিষয়টি শনাক্ত হলে সঙ্গে সঙ্গেই সোহরাব হোসেনকে মুক্তি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় আদালত দুঃখ প্রকাশ করেছে।

এঘটনায় দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের সম্পাদক মোঃ খায়রুল আলম রফিক বলেন, এই ঘটনায় কুমিল্লাসহ ফরিদপুরের ভাঙ্গা এবং একটি প্রতারক  চক্র জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে  আইনগত ব্যবস্থা নিতে লিখিত ভাবে কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

Link copied!