যেকোনো সময় ভেস্তে যেতে পারে যুদ্ধবিরতি

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ০৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৩৪ এএম

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শর্তসাপেক্ষে দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণার ২৪ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার আগেই বুধবার (৮ এপ্রিল) ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননে ব্যাপক হামলা চালায়। এতে দেশটিতে অন্তত ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন। এর জবাবে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে রকেট হামলা চালিয়েছে।

এনিয়ে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি জানিয়েছে, ইসরায়েল যদি লেবাননের ওপর হামলা অব্যহত রাখে, তাহলে প্রতিপক্ষকে 'পস্তাতে হয়এমন জবাব' দেবে তারা।

এমন অবস্থায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শান্তিচুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। 

সর্বশেষ খবর, হেজবুল্লাহ জানিয়েছে যে ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়ায় তারা উত্তর ইসরায়েলে রকেট নিক্ষেপ করেছে।

ইরানসমর্থিত এই গোষ্ঠীটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, লেবাননের বিরুদ্ধে 'ইসরায়েলি-আমেরিকান আগ্রাসন' বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তারা হামলা চালিয়ে যাবে।

১০ মিনিটে লেবাননের ১০০ স্থাপনায় ব্যাপক হামলা, নিহত ২৫৪ ১০ মিনিটে লেবাননের ১০০ স্থাপনায় ব্যাপক হামলা, নিহত ২৫৪ 

এর আগে, স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। পরে তা নিশ্চিত করে ইসরায়েল, ইরান ও চুক্তির মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান। 

তবে লেবাননে চলমান ইসরায়েলি হামলায় যুদ্ধবিরতি কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এ ছাড়া, লেবানন যুদ্ধবিরতির আওতায় পড়ে কী-না, তা নিয়ে এখনও দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। 

বুধবার মাত্র ১০ মিনিটে লেবাননের ১০০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইসরায়েল। আর হামলা বন্ধ না হলে পাল্টা আঘাতের হুমকি দিয়েছে ইরান।

লেবাননকে 'পৃথক সংঘাতের' বিষয় হিসেবে বর্ণনা করে ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েল ইরান-সংক্রান্ত চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করছে না।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বুধবারের হামলাকে হেজবুল্লাহর ওপর 'সবচেয়ে বড় আঘাত' হিসেবে বর্ণনা করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, 'প্রয়োজন হলে' ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে আবার লড়াই শুরু করবে।

তিনি শপথ করে বলেছেন, প্রয়োজন হলে ইসরায়েল আবারও ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করতে প্রস্তুত থাকবে।

এদিকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, তেহরানের দেওয়া যুদ্ধবিরতি ১০ দফা প্রস্তাবের তিনটি ধারা ইতোমধ্যেই 'প্রকাশ্যে ও স্পষ্টভাবে লঙ্ঘিত' হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধবিরতি বা আলোচনা চালিয়ে যাওয়াকে 'অযৌক্তিক' বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। গালিবাফ বলেছেন, যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে লেবানন অন্তর্ভুক্ত ছিল। যদিও সে দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে হোয়াইট হাউস।

তিনি আরও বলেন, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের ফার্স প্রদেশে একটি ড্রোন প্রবেশ করেছিল। তৃতীয়ত, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকারের বিষয়টিও প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে জানান গালিবাফ।

Link copied!