লেবাননেও যুদ্ধবিরতির আহ্বান যুক্তরাজ্য-অস্ট্রেলিয়ার

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ০৯ এপ্রিল, ২০২৬, ০১:২৩ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত সাময়িক যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করার জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই সমঝোতা অবশ্যই লেবানন পর্যন্ত বিস্তৃত হতে হবে, যেখানে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রাণঘাতী হামলা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, কুপার কেবল যুদ্ধবিরতিই নয়, বরং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়টি নিয়েও কথা বলেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচল অবশ্যই টোলমুক্ত হতে হবে। মূলত এই জলপথ দিয়ে যাতায়াতের জন্য ইরানের ট্রানজিট ফি আদায়ের যে প্রচেষ্টা, সেটির সরাসরি বিরোধিতা করেছে যুক্তরাজ্য।

এদিকে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজও এই যুদ্ধবিরতির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে একই ধরনের অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। ব্রিসবেনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন যে, তার সরকার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার এই যুদ্ধবিরতি লেবাননের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত।

অ্যালবানিজ এই সাময়িক শান্তিকে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করলেও এটিকে একটি ‘ভঙ্গুর শান্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই স্বল্পমেয়াদী বিরতি যেন শেষ পর্যন্ত একটি স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ চুক্তির দিকে নিয়ে যায়।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, লেবাননে চলমান সহিংসতা নিয়ে অনেক অস্ট্রেলীয় নাগরিক গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তার মতে, লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতি কেবল সেই অঞ্চলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর নেতিবাচক প্রভাব সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে।

আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা ও মানবিক সংকটের কথা বিবেচনা করে লেবানন সীমান্তে যুদ্ধ বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি বলে তিনি মনে করেন। বিশেষ করে বৈরুতসহ লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক অভিযান এই অঞ্চলের শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এই বিশ্বনেতা।

যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে আসা এই দ্বিমুখী চাপ মূলত মধ্যপ্রাচ্যে একটি টেকসই সমাধানের পথ খোঁজার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একদিকে হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং অন্যদিকে লেবাননের সাধারণ মানুষকে যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করার বিষয়ে পশ্চিমা দেশগুলো একমত হয়েছে।

১০ এপ্রিলের পরিকল্পিত শান্তি আলোচনার আগে মিত্র দেশগুলোর এই অবস্থান ওয়াশিংটনের ওপর লেবানন ইস্যুটি গুরুত্বের সাথে বিবেচনার চাপ বাড়াবে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সূত্র: আল জাজিরা

Link copied!