স্বামী মারা গেছেন কয়েক বছর আগে। পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ভিটেমাটিতেই সন্তানদের নিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিল বৃদ্ধা বকুলা খাতুনের। কিন্তু প্রভাবশালীদের লালসার বলি হয়ে আজ তিনি নিজ ঘরবাড়ি ছাড়া। এক বছর ধরে অন্যের দ্বারে দ্বারে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন এই বিধবা। ভিটেমাটি ফিরে পেতে এবং দোষীদের বিচারের দাবিতে এখন চোখের জলই তাঁর একমাত্র সম্বল।
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার হুমাইপুর ইউনিয়নের উজাইখালী গ্রামে জমি দখলকে কেন্দ্র করে বকুলা খাতুনের ওপর নেমে আসে অমানুষিক নির্যাতন। অভিযোগ উঠেছে, হিরু মিয়া, মতি মিয়া ও চিনু মিয়াসহ একদল প্রভাবশালী ব্যক্তি তাঁর বসতভিটা দখল করতে দুই দফায় বর্বরোচিত হামলা চালায়।
প্রথম দফা হামলা হয় ২০ dossier ২৫ সালের আগস্টে। সে সময় বকুলা খাতুন ও তাঁর অন্তঃসত্ত্বা মেয়েকে মারধর করে ঘর থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করা হয়। সর্বশেষ গত ৯ ফেব্রুয়ারি পুনরায় হামলা চালিয়ে তাঁর বসতঘর, রান্নাঘর ও বাথরুম গুঁড়িয়ে দিয়ে ভিটেমাটি দখল করে নেয় অভিযুক্তরা।
বর্তমানে বকুলা খাতুন পার্শ্ববর্তী অষ্টগ্রাম উপজেলায় অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে আছেন। তিনি কান্নজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আমার এক ছেলে মানসিক ভারসাম্যহীন, আরেক ছেলে আসামিদের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। আমি এই বৃদ্ধ বয়সে কোথায় যাব? পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া জমিটুকুও তারা কেড়ে নিল। গত এক বছর ধরে মানুষের বাড়িতে আশ্রিত থেকে আমি দিশেহারা।"
স্থানীয়রা জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশি বৈঠক হয়েছে। হুমাইপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জানান, সালিশে বকুলা খাতুনের পক্ষে সিদ্ধান্ত হলেও প্রভাবশালী হিরু মিয়া ও তাঁর লোকজন তা অমান্য করে জোরপূর্বক বাড়িটি দখল করে নেয়।
নিরুপায় হয়ে বকুলা খাতুন আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বাজিতপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মুশফিকুর রহমান জানান, তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে এবং প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জালালদ্দিন বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।
বকুলা খাতুনের দাবি, তাঁর বাবার দেওয়া 'হেবা' দলিল অনুযায়ী তিনি এই জমির প্রকৃত মালিক। কিন্তু প্রভাবশালীদের পেশিশক্তির কাছে আজ তিনি নিজ ভূমিতেই পরবাসী। জীবনের শেষ বেলায় নিজের ভিটেয় ফিরে মরতে চান এই বৃদ্ধা। বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনের কাছে তাঁর একটাই প্রশ্ন—"পৈত্রিক ভিটাটুকু কি আমি আর ফিরে পাব না?"
আপনার মতামত লিখুন :