বান্দরবান জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলার বেতছড়া রেঞ্জে কাঠবোঝাই যানবাহন থেকে বন বিভাগের নামে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ইসরাইল এবং বন প্রহরী (ফরেস্ট গার্ড) আলামিনের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও একাধিক সূত্রের দাবি, কুমিপাড়া, মুরং বাজার, কক্কন জিড়ি, হেমেগ্রী, রুমা ও রোয়াংছড়ি উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ি বনাঞ্চল থেকে কাঠ পরিবহনের সময় প্রতিটি গাড়ি থেকে নিয়মিতভাবে অর্থ আদায় করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, মাঠপর্যায়ে এই অর্থ সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করেন ফরেস্ট গার্ড আলাআমিন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ১২ মাইল ওয়াই-জংশন এলাকায় একটি অস্থায়ী অফিস থেকে বন বিভাগের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ইসরাইল অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকায় নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না। ফলে রেঞ্জের দৈনন্দিন কার্যক্রম মাঠপর্যায়ের কর্মচারীদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, বেতছড়া রেঞ্জের আওতাধীন কিছু এলাকায় গাছ কাটার ক্ষেত্রে মৌখিক অনুমতি দেওয়া হয় এবং এর বিপরীতে অর্থ লেনদেনের ঘটনা ঘটে। এতে করে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বন উজাড়ের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
এছাড়া অনুমতি ছাড়া সরকারি গাছ কাটার অভিযোগও রয়েছে রেঞ্জ কর্মকর্তা ও ফরেস্ট গার্ডের বিরুদ্ধে। তবে এ বিষয়ে ফরেস্ট গার্ড আলামিন দাবি করেন, "কর্তনকৃত গাছের অর্থ স্থানীয় মসজিদে প্রদান করা হয়েছে।"
অভিযোগ প্রসঙ্গে ফরেস্ট গার্ড আলামিন বলেন, "আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়; এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।" অভিযোগের বিষয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ইসরাইলও অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, "আমি কোনো অবৈধ লেনদেনের সঙ্গে জড়িত নই।" তিনি অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকায় নিয়মিত উপস্থিত থাকতে না পারার বিষয়টি স্বীকার করেন।
এ বিষয়ে বান্দরবান বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোঃ তৌফিকুল ইসলাম বলেন, "অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
আপনার মতামত লিখুন :