রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলাধীন দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দিবাগত মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত এক বিশেষ অভিযানে ১০ জনকে কারাদণ্ড ও বালু উত্তোলনের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। রাত ১২:১৫ থেকে ভোর ৪:৩০ পর্যন্ত। দৌলতদিয়া ঘাট সংলগ্ন কলাবাগান এলাকা। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুনতাসির হাসান খানের নেতৃত্বে কোস্ট গার্ড ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যবৃন্দের সহযোগিতায়। অভিযান চলাকালে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ১০ জন ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন: ১.গোয়ালন্দ উপজেলার বড় মসজিদ পাড়া গ্রামের জবাই মন্ডলের ছেলে মো. আনু মন্ডল (৩০), ২.দৌলতদিয়া সাত্তার মেম্বার পাড়া গ্রামের মো. মনছের শেখের ছেলে মো. শাহিন শেখ (৩০), ৩.বরিশাল জেলার মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার ৪. জালির চর গ্রামের রফিজউদ্দিন বেপারীর ছেলে মো. নিজাম বেপারী (৪৫), ৫.পটুয়াখালী সদর উপজেলার পূর্ব জনকাঠি গ্রামের মো. সানু ফকিরের ছেলে মো. জাকারিয়া ফকির (১৮), ৬.একই এলাকার পশ্চিত হাতালিয়া গ্রামের মো. নজরুল শিকদারের ছেলে মো. সাইদুল শিকদার (২৪), ৭.পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকান্দি উপজেলার চর ধলেশ্বর গ্রামের মো. জাকির হাওলাদারের ছেলে মো. রাকিব হাওলাদার (১৮), ৮.মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার চর জানাজাত গ্রামের আব্দুর রব মাতুব্বারের ছেলে আবুল কালাম (৪২), ৯.বরগুনা জেলার বাবনা উপজেলার পূর্ব বলবনিয়া গ্রামের মো. মোতালেবের ছেলে মো. ইয়াছিন (১৮),১০. একই এলাকার বলয়বনিয়া গ্রামের আ. হালিম আকনের ছেলে মো. শাকিল আকন (১৮), ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার উত্তর সিমিলা গ্রামের জামাল শেখের ছেলে মো. মিজান শেখ (৪৫)।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান,আটককৃতদের 'বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০' এর ৪ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে ১৫ ধারা অনুযায়ী ৩ (তিন) মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। অভিযানস্থল থেকে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে:১টি কাটার (ড্রেজার), ২টি ক্যারিং বডি জব্দকৃত মালামাল বর্তমানে দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির হেফাজতে রাখা হয়েছে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুনতাসির হাসান খান জানান, সরকারি সম্পদ রক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের এই জিরো টলারেন্স নীতি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আপনার মতামত লিখুন :