ভৈরবে শিশু হত্যা মামলার বাদীর পিতার বাড়িতে দুর্বৃত্তদের আগুন

জয়নাল আবেদীন রিটন , ভৈরব প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে শিশু তানভীর আহম্মেদ মুজাহিদ হত্যা মামলার বাদী মা তসলিমা বেগমের বাবার বাড়িতে গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা অগুন দিয়েছে। আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছে দুটি বসত ঘর নগদ টাকা আসবাবপত্র সহ সহায়সম্বল। ডাক চিৎকার শুনে এলাকাবাসী এগিয়ে আসে এবং দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। ততক্ষণে সবই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। খবর পেয়ে সকাল ১০টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ আতাউর রহমান আকন্দ। এই সময় তিনি বলেন, তানভীর হত্যার হত্যার আসামিরা

যেখানেই থাকুক অচিরেই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। আগুনের ঘটনায় যারাই এর পিছনে থাকুক ছাড় পাবে না কেউ। প্রয়োজনে এই ঘটনায় আলাদা মামলা নেওয়া হবে।

জানা যায়, গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদী পূর্ব কান্দা গ্রামে গত (১৬ই এপ্রিল) তানভীর আহম্মেদ মুজাহিদদের বাবা মিরাজের সাথে তার মা পারিবারিক কলহের জের ধরে তাকে নিয়ে একই গ্রামে তার নানার বাড়িতে চলে আসে। এর পরের দিন ঔষধ কিনে দেওয়ার কথা বলে তানভিরকে তার দাদী রাবেয়া বেগম তাদের বাড়িতে নিয়ে আসে। এরপর থেকেই তানভীর নিখোঁজ হয়। গত ২৩ এপ্রিল মানিকদী পূর্ব কান্দা হাওরের মাঝ খানে একটি ডোবা থেকে তানভীরের অর্ধ গলিত লাশ উদ্ধার করে ভৈরব থানার পুলিশ। এই ঘটনায় তানভীরের মা বাদী হয়ে স্বামীসহ তার পরিবারের ৬ সদস্যকে আসামি করে ভৈরব থানায় একটি মামলা দায়েরে করেন। তারই জের ধরে গতকাল রাতে তসলিম ও তার পরিবারের সবাইকে পুড়িয়ে মারতেই এই আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটিয়েছে আসামি পক্ষ এমন দাবি মামলার বাদী তসলিমা ও তার পরিবারের।

মামলার বাদী তাসলিমার বলেন, গতরাত আড়াইটার দিকে আমাদের বাড়িতে মিরাজসহ কয়েকজন লোক আগুন দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় আমার ভাগনি দেখে ফেলায় তাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়ে তারা পালিয়ে যায়। আমরা ভাগ্যগুণে বেঁচে গেলেও আমাদের সবই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, খবর পেয়ে রাতেই ফায়ার সার্ভিস সহ আমার টিম ঘটনা স্থলে আসে। তখন আগুন নেভানো হয়ে গেছে। সকালে আমি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছি। আসলেই ঘটনাটি মর্মান্তিক। এর পিছনে যারাই থাকুক দায়ীদের অবশ্যই খুঁজে বেড় করে আইনের হাতে সোপর্দ করা হবে।

 

Advertisement

Link copied!