রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার টুকুরিয়া ইউনিয়নের টিওরমারী গ্রামে করতোয়া নদী থেকে দীর্ঘ সাত বছর ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। স্থানীয় প্রভাবশালী বালু খেকো চক্রের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে গ্রামের রাস্তাঘাট ধ্বংসসহ হুমকির মুখে পড়েছে কৃষি জমি ও বসতবাড়ি।
গত ৫ এপ্রিল গ্রামবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও ১৮ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও কার্যত কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। নির্দেশ আছে, নেই বাস্তবায়ন, জানা গেছে, অভিযোগ পাওয়ার দিনই (৫ এপ্রিল) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পপি খাতুন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) যৌথ অভিযানের নির্দেশ দেন। কিন্তু বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো অভিযান পরিচালিত হয়নি। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
গত ১৯ এপ্রিল রবিবার দৈনিক যুগের আলোও জাতীয় সাপ্তাহিক জয় ভিশন এবং গত ২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দৈনিক বায়ান্নর আলো পত্রিকায় সংবাদটি প্রকাশের পর দুপুরে প্রশাসনের টনক নড়ে। উপজেলা ভূমি অফিসের একজন কর্মকর্তা ও একজন তহসিলদার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়েও হাতেনাতে অবৈধ বালু বহনকারী গাড়ি এবং বালু উত্তোলনের দৃশ্য স্বচক্ষে দেখেন। কিন্তু রহস্যজনক কারণে তারা কোনো গাড়ি জব্দ করেননি বা কারো বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেননি।
এতে গ্রামবাসীর মধ্যে চরম হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, কোনো বড় ধরনের 'অর্থনৈতিক সমঝোতা'র কারণেই অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হচ্ছে। টিওরমারী গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ আক্ষেপ করে বলেন, "প্রশাসনের কাছে বারবার গিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না। ইউএনও স্যার লিখে দেওয়ার পরও যদি অভিযান না হয়, তাহলে আমরা কোথায় যাব?"
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি এই বালু পরিবহনের প্রতিবাদ করায় রুবেল ও আনোয়ার নামে দুই যুবককে কুপিয়ে জখম করা হয়েছিল। বর্তমানে বালু সিন্ডিকেটের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এলাকায় মহড়া দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমূল হক বলেন, ‘আমরা প্রস্তুত। এসিল্যান্ড বলার সাথে সাথেই আমরা অভিযানে যাব।’ তবে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীর আহমেদকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
অন্যদিকে ইউএনও পপি খাতুন বলেন, ‘আমি অভিযান পরিচালনার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। কিন্তু কেন অভিযান চালানো হচ্ছে না তা আমি খোঁজ নিয়ে দেখবো।’ গ্রামবাসীদের প্রাণের দাবি, শুধুমাত্র পরিদর্শনে কাজ হবে না। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অবৈধ বালু পরিবহনের গাড়িগুলো জব্দ করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। তাদের মতে, গাড়ি জব্দ করা গেলেই এই অবৈধ ব্যবসা বন্ধ করা সম্ভব হবে।
তারা এ বিষয়ে রংপুর জেলা প্রশাসকের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আপনার মতামত লিখুন :