নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার মল্লিকপুর ইউনিয়নের পারমল্লিকপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. মোহব্বত হোসেনের বিরুদ্ধে সরকারি গরু বিতরণ কর্মসূচি থেকে ৫টি গরু আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা বিএনপি'র কমিটি বিলুপ্ত হলেও মহাব্বত মল্লিকপুর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বলে নিজেকে দাবি করেন।
চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি লোহাগড়া উপজেলা মৎস্য অফিসের আওতায় গরু বিতরণে অনিয়ম ও আত্মসাতের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গরু বিতরণের প্রথম দিনই মোহব্বত হোসেন একটি ভ্যানে করে ৩টি গরু নিয়ে স্থানীয় হাটে বিক্রি করে দেন। পরদিন একইভাবে আরও ২টি গরু বিক্রি করেন তিনি। লোহাগড়ার আলোচিত এই গরু কাণ্ডে মোট ৬০টি গরুর মধ্যে ৫টি গরু একাই আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এছাড়া, কয়েকজন এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, গরু দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মোহব্বত হোসেন তাদের কাছ থেকে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়েছিলেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে চাপের মুখে তিনি টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন।
অভিযোগের বিষয়ে মোহব্বত হোসেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি এসব বিষয়ে কিছুই জানি না। আমাকে নিয়ে যে সংবাদ করা হয়েছে, তা দেখছি। মৎস্য অফিস কাদের দিয়ে কী করেছে, সে বিষয়ে আমার কোনো ধারণা নেই।”
এ বিষয়ে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা মাসুম খান বলেন, “এ ধরনের কোনো ঘটনার বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে যদি কেউ কারো গরু নিয়ে থাকে, তা ব্যক্তিগতভাবে নিয়েছে—এর বেশি কিছু বলতে পারছি না।”
অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী কায়সার জানান, “গরু বিতরণ নিয়ে নতুন করে সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত জানানো যাবে।”
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা ও নেটিজেনদের ধারণা, একটি দালাল চক্র এবং অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এ ঘটনা ঘটতে পারে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :