ঈশ্বরগঞ্জে আইসিটি ভবন নির্মাণে বাধা: শিক্ষকদের মানববন্ধন

উবায়দুল্লাহ রুমি , বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ০৬:৫৬ পিএম

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় প্রস্তাবিত আইসিটি ট্রেনিং অ্যান্ড রিসোর্স সেন্টার ফর এডুকেশন ভবনের নির্মাণকাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে দ্রুত সমস্যা সমাধান করে নির্মাণকাজ চালুর দাবি জানানো হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দেশের ১৬৩ উপজেলায় আইসিটি ট্রেনিং অ্যান্ড রিসোর্স সেন্টার নির্মাণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায়ও একটি ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ইতোমধ্যে দেশের ১৬২টি উপজেলায় ভবন নির্মাণ শেষ পর্যায়ে থাকলেও ঈশ্বরগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ প্রেক্ষিতে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নিয়ে ঈশ্বরগঞ্জ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কামরুল আলম, মাইজবাগ পাছাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফুস সুলতান এবং ধীতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম.এ ফারুক বলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বর্তমান বিশ্বের চালিকাশক্তি। শিক্ষা, ব্যবসা, স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় এর গুরুত্ব অপরিসীম। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের আইসিটি ভবন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তারা নির্মাণকাজে বাধা প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নির্ধারিত স্থানে ভবন নির্মাণের দাবি জানান।

মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি মুফতি হাবিবুল্লাহসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ইউআইটিআরসিই-২ প্রকল্পের আওতায় ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের অন্তর্ভুক্ত ১০ শতাংশ জমিতে আইসিটি ভবন নির্মাণের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়। পরে ২০২৩ সালে প্রকল্প অনুমোদন পেয়ে কাজ শুরু হলে স্থানীয় আপত্তির মুখে পড়ে।

স্থানীয় মকবুল হোসেন ও তার পক্ষের লোকজন প্রস্তাবিত জায়গার সাড়ে ৪ শতাংশ জমির মালিকানা দাবি করে নির্মাণকাজে বাধা দেন।

এ বিষয়ে জমির মালিক দাবিদার পরিবারের সদস্য মাসুদ আল নোমান বলেন, সংশ্লিষ্ট জমি তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি এবং সেখানে পারিবারিক কবরস্থান রয়েছে। জনস্বার্থে আইসিটি ভবনের কাজ হোক তা আমরাও চাই। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকলেও জোরপূর্বক জমি দখল করে নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। একইসঙ্গে হয়রানি ও নারী সদস্যদের আটক রাখার ঘটনাকেও নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

নির্মাণকাজের দায়িত্বে থাকা কোরিয়ান হোবান ইএনসি কোম্পানির সাইট ইঞ্জিনিয়ার কৌশিক রঞ্জন সরকার জানান, উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক নির্ধারিত জায়গাতেই কাজ শুরু করা হয়েছে। তবে স্থানীয় কিছু লোকজন বারবার বাধা দেওয়ায় কাজ ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাউদ্দিন বিশ্বাস বলেন, বিআরএস রেকর্ড অনুযায়ী জমিটি উপজেলা পরিষদের মালিকানাধীন। সেখানেই আইসিটি ভবন নির্মাণের প্রস্তাবনা করা হয়েছে। অবৈধভাবে বাধা প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রহমান বলেন, আইসিটি ভবনটি নির্মিত হলে ঈশ্বরগঞ্জের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে। দীর্ঘদিন আগে সরকার জমিটি অধিগ্রহণ করেছে। একাধিকবার বুঝানোর পরও কিছু ব্যক্তি বাধা দেওয়ায় আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্মাণকাজ চালু করা হয়েছে। সরকারি বরাদ্দ ফেরত গেলে এলাকার উন্নয়ন ব্যাহত হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

Link copied!