মানবাধিকার সুরক্ষায় গ্রামভিত্তিক উদ্যোগ জোরদারে কেশবপুরে রিইব-হোপ প্রকল্পের সভা অনুষ্ঠিত

হারুনার রশীদ বুলবুল , কেশবপুর (যশোর) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:০৪ পিএম

যশোরের কেশবপুর উপজেলায় গ্রাম পর্যায়ে মানবাধিকার সুরক্ষা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বিশেষ করে নারী ও কিশোরীদের মানবাধিকার ও সামাজিক অংশগ্রহণ শক্তিশালীকরণ-হোপ প্রকল্পের আওতায় এ সভার আয়োজন করে রিসার্চ ইনিশিয়েটিভস্ বাংলাদেশ (রিইব)। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল ২০২৬) পাঁচপোতা দাসপাড়া, ৫নং মঙ্গলকোট ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত উঠান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় বাসিন্দা ময়না দাস। সভায় উপস্থিত ছিলেন হোপ প্রকল্পের প্রোজেক্ট ডাইরেক্টর অ্যাডভোকেট রুহী নাজ।

সভা শুরুর আগে তিনি কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেকসোনা খাতুনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং রিইব-এর চলমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।

কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেকসোনা খাতুন বলেন, “সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলোর এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। মানবাধিকার বিষয়ে সচেতনতা তৈরি হলে সমাজে সহিংসতা ও বৈষম্য কমবে। স্থানীয় প্রশাসন এ ধরনের কার্যক্রমে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।” তিনি নারী ও কিশোরীদের শিক্ষা ও সামাজিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অ্যাডভোকেট রুহী নাজ তাঁর বক্তব্যে বলেন, “প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হলে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা ও অংশগ্রহণ বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। নারী ও কিশোরীদের ক্ষমতায়ন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। হোপ প্রকল্প সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।” তিনি আরও বলেন, “গ্রামভিত্তিক কমিটিগুলোকে আরও সক্রিয় করে তুলতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও মনিটরিং জোরদার করা হবে।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা সিএসও কমিটির সভাপতি ও সাংবাদিক মো. হারুনার রশীদ বুলবুল বলেন, “মানবাধিকার রক্ষায় স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের উঠান বৈঠক মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করে এবং সামাজিক সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখে।” তিনি গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে এ ধরনের উদ্যোগের প্রচার ও সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রিইব-হোপ প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী খালিদ হাসান, ফিল্ড সুপারভাইজার উজ্জ্বল কুমার মন্ডল, জয়ন্ত দাস, অশোকা দাসসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

সভায় মানবাধিকার রক্ষা, নারী ও কিশোরীদের সামাজিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং স্থানীয় সমস্যা সমাধানে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

Link copied!