আসামে হ্যাটট্রিক জয়ের পথে বিজেপি

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ০৪ মে, ২০২৬, ০১:১৯ পিএম

ভারতের আসামে বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনায় প্রাথমিক ফলাফলে নিরঙ্কুশ জয়ের পথে এগিয়ে রয়েছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট।

সোমবার (৪ মে) সকাল ৮টায় শুরু হওয়া গণনায় ১২৬ আসনের বিধানসভায় বিজেপি ও তার মিত্ররা প্রায় ১০০টির কাছাকাছি আসনে এগিয়ে থেকে টানা তৃতীয়বার সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে।

নির্বাচনী ফলাফলের এই ধারা অব্যাহত থাকলে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা-এর নেতৃত্বে বিজেপি ২০১৬ ও ২০২১ সালের পর ২০২৬ সালেও জয় নিশ্চিত করে হ্যাটট্রিক গড়তে যাচ্ছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রাথমিক হিসাবে, বিজেপি একাই ৯৭টির বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছে, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬৪ আসনের তুলনায় অনেক বেশি। অন্যদিকে প্রধান বিরোধী ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রায় দুই ডজনের কিছু বেশি আসনে এগিয়ে থেকে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে।

এর আগে বিভিন্ন বুথফেরত জরিপেও একই ধরনের আভাস পাওয়া গিয়েছিল। এনডিটিভি-অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়ার এক্সিট পোল পূর্বাভাস দিয়েছিল, বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ৮৮ থেকে ১০০টি আসনে জয় পেতে পারে, যেখানে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট পেতে পারে ২৪ থেকে ৩৬টি আসন। বর্তমান গণনার হার সেই পূর্বাভাসের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ।

জোটের শরিক অসম গণ পরিষদ এবং বোড়ো পিপলস ফ্রন্ট-ও কয়েকটি আসনে এগিয়ে রয়েছে, যা এনডিএর ব্যবধান আরও বাড়িয়েছে। বিজেপি এককভাবেই বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার পথে রয়েছে।

নির্বাচনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসন জালুকবাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। অন্যদিকে যোরহাটে কংগ্রেস নেতা গৌরব গগৈ পিছিয়ে পড়েছেন বলে প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে। এছাড়া এআইইউডিএফ প্রধান বদরুদ্দিন আজমল এবং রায়জর দলের অখিল গগৈ নিজ নিজ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।

গত ৯ এপ্রিল এক দফায় অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক ভোটার অংশ নেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, প্রায় ৮৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে, যার মধ্যে নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। ৩৫ জেলার ৪০টি কেন্দ্রে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ভোটগণনা চলছে, যেখানে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীসহ বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয়তাবাদী রাজনীতি, উন্নয়নমূলক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক ইস্যুগুলোকে সামনে রেখে পরিচালিত প্রচারণা বিজেপির পক্ষে গেছে। চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পর এনডিএ টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় ফিরলে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজনীতিতে দলটির প্রভাব আরও সুদৃঢ় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

Link copied!