কেরানীগঞ্জে জাল টাকা তৈরির কারখানা শনাক্ত: সরঞ্জামসহ চক্রের ২ সদস্য আটক

ঢাকার কেরানীগঞ্জ-এ জাল টাকা তৈরি ও সরবরাহের একটি সক্রিয় চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা দক্ষিণ গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় বিপুল পরিমাণ জাল নোট ও জাল টাকা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল ১১টায় ডিবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. তরিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর হাটকে কেন্দ্র করে জাল টাকা ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছিল চক্রটি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে ডিবি পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে।

ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান-এর নির্দেশনায় এবং ডিবি দক্ষিণের অফিসার ইনচার্জ সফিকুল ইসলাম সুমন-এর নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভাংনা এলাকার মুজিবনগরে অভিযান চালায়।অভিযানে একটি পাঁচতলা ভবনের তৃতীয় তলায় গড়ে তোলা গোপন জাল টাকা তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়া যায়। সেখান থেকে চক্রের মূল কারিগর হিসেবে পরিচিত মো. কাউসারকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির মালিক মো. কামাল হোসেনকেও আটক করা হয়।

অভিযানকালে মোট ৮ লাখ টাকার জাল নোট (কাউসারের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা, কামালের কাছ থেকে২ লাখ টাকা),জাল টাকা তৈরির সরঞ্জাম হিসাবে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন প্রিন্টার, বিশেষ ধরনের কাগজ, রঙিন কালি,হ্যান্ড সিলার,ডাইস ও কাটিং যন্ত্রসহ অন্যান্য কারিগরি উপকরণ উদ্ধার করা হয়।পুলিশ জানায়, জব্দকৃত সরঞ্জামগুলো অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে ব্যবহার করা হচ্ছিল, যা একটি পেশাদার জাল নোট উৎপাদন চক্রের ইঙ্গিত দেয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত কাউসার প্রায় ৮ বছর ধরে জাল টাকার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এর আগে একই অপরাধে একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে সে কারাভোগও করেছে। বর্তমানে ঢাকার বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে জাল টাকা সংক্রান্ত অন্তত ৭টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।অন্যদিকে, কামাল হোসেন নিজের ভবনটি ভাড়া দিয়ে বা সহযোগিতা করে এই অপরাধে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ঈদকে সামনে রেখে জাল টাকা প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে কোরবানির পশুর হাট, পাইকারি বাজার ও ব্যস্ত লেনদেন কেন্দ্রগুলোকে নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাধারণ মানুষের প্রতি বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, আসন্ন ঈদুল আযহা-কে ঘিরে বাজারে নগদ লেনদেন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়, যা জাল টাকা কারবারিদের জন্য সুযোগ তৈরি করে। এ প্রেক্ষাপটে বড় অঙ্কের লেনদেনের সময় প্রতিটি নোট সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কোনো নোট সন্দেহজনক মনে হলে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানায় জানাতে বলা হয়েছে।

পাশাপাশি অপরিচিত ব্যক্তি বা অচেনা উৎস থেকে বড় অঙ্কের নগদ অর্থ গ্রহণে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, জাল টাকা চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান জোরদার করা হবে।

 

Link copied!