ঝুট দখলে যুবদলের দুপক্ষের সংঘর্ষ-গোলাগুলি, পথচারীসহ গুলিবিদ্ধ ২

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ০৯ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:০০ পিএম

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি গার্মেন্টসের ঝুট দখলে নিতে যুবদলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির খবর পাওয়া গেছে। সংঘর্ষ চলাকালে এক পথচারী মাদ্রাসা শিক্ষার্থীসহ দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৮ জন।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে ফতুল্লার পঞ্চবটি চাঁদনী হাউজিং এলাকায় ‘বেস্ট স্টাইল কম্পোজিট গার্মেন্টসের’ সামনে এই ঘটনা ঘটে। জেলা যুবদলের সদস্যসচিব মশিউর রহমান রনি ও ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদের অনুসারীদের মধ্যে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এই সংঘর্ষের সূত্রপাত বলে স্থানীয় ও রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।

সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ দুজন হলেন- ফতুল্লার এনায়েতনগর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খোকা মিয়ার ছেলে রাকিব (২২), স্থানীয় আসমাউল হোসেনের ছেলে ও মাদ্রাসা ছাত্র ইমরান হোসেন (১২)। এদের মধ্যে ইমরানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে তার পরিবার।

স্থানীয় ও রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের পর ‘বেস্ট স্টাইল গার্মেন্টস’ থেকে ঝুট নামাতেন জেলা যুবদলের সদস্যসচিব মশিউর রহমান রনির অনুসারী এনায়েতনগর ইউনিয়ন যুবদল সেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক সারজিল আহমেদ অভি। এই নিয়ে ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদের অনুসারীদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এই দ্বন্দ্বের জেরে বৃহস্পতিবার সকালে ওই গার্মেন্টসের ঝুট দখলে নেওয়াকে কেন্দ্র করে অভি ও মাসুদের সমর্থকরা মুখোমুখি অবস্থান নেয়। এক পর্যায়ে দুপক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে গোলাগুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের শব্দে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হন মাদ্রাসা ছাত্র ইমরান হোসেন। ছুটির পর সে মাদ্রাসা থেকে বাসায় ফিরছিল বলে জানিয়েছেন তার বাবা আসমাউল হোসেন। আসমাউল হোসেন বলেন, আমার ছেলের পেটে গুলি লেগেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে এসেছি। এখনও সেখানে ভর্তি আছে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা যুবদলের সদস্যসচিব মশিউর রহমান রনি বলেন, কারখানাটি থেকে আজ (বৃহস্পতিবার) ঝুট নামানোর কথা ছিল। কারখানাটি থেকে যারা বৈধভাবে ঝুট নামাচ্ছিলেন, তাদের উপর হামলা চালানো হয়। তবে ঘটনাটি কোনো রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব নয়। পুরোটা ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব। আর এতে আমি কোনোভাবেই জড়িত নই, আমি ঘুম থেকে উঠে ঘটনাটি জেনেছি।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চেয়ে ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদকে একাধিকবার কল করা হলেও রিসিভ করেননি তিনি। এতে তার বক্তব্য জানা যায়নি।

মাসুদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব রাসেল মাহমুদ বলেন, আমি এই ঘটনায় জড়িত নয়। সংঘর্ষের খবর শুনে আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেন, ঝুট নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দুইজন গুলিবিদ্ধের খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।

Link copied!